• পদ্মের রিমোট কন্ট্রোল বনাম তৃণমূলের রিপোর্ট কার্ড, অভিষেকের নিশানায় মোদী–শাহ
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ভোটের লড়াইয়ে আরসি বনাম আরসি! অর্থাৎ, রিমোট কন্ট্রোল বনাম রিপোর্ট কার্ডের লড়াই!

    ২০২৬–এ বাংলার ভোটযুদ্ধকে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তুলে ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যা, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেখানে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে দিয়েছে, ‘সার’–এর মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে, বাংলাদেশি–রোহিঙ্গার তকমা সেঁটে সাধারণ মানুষের উপরে নির্যাতন চালাচ্ছে, সেখানে তৃণমূল জনতার সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরছে।

    মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, ‘২০২৬–এর লড়াই হলো দুই আরসি–র লড়াই। একদিকে বিজেপি–র আরসি— রিমোট কন্ট্রোলে বাংলার প্রাপ্য অর্থ থমকে রাখা, বৈধ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, কেন্দ্রীয় বাহিনী, এজেন্সি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের আরসি হলো রিপোর্ট কার্ড। প্রতিশ্রুতি রক্ষা, স্বপ্নের বাস্তবায়ন, কাজের খতিয়ানের প্রতিফলন এই রিপোর্ট কার্ড।’ নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই অভিষেক তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের কাজের রিপোর্ট কার্ড সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। বিধানসভা ভিত্তিক কত মানুষ ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের সুবিধা পেয়েছেন, কতজন মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেয়েছেন, কতজন ‘যুবসাথী’র সুবিধা পাচ্ছেন— এমনই বিভিন্ন পরিসংখ্যান জনতাকে জানাচ্ছেন।

    এ দিন উত্তরবঙ্গের নাটাবাড়ি, জলপাইগুড়ি ও কুমারগ্রামে পরপর তিনটি সভাতেও উন্নয়নের অভিষেক এই রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেছেন। জলপাইগুড়ির সভায় অভিষেক বলেন, ‘কেবল এই বিধানসভা কেন্দ্রেই ৯৭,১৩৩ জন মহিলা প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। ৩.৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ খাদ্যসাথীর অধীনে বিনামূল্যে রেশন পান। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পান ১৩,৮২৩ জন চাষি। প্রায় ১৭,০০০ যুবক-যুবতী যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।’ তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে অতীতে রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে তাঁরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো তাঁরা রক্ষা করেননি। নাটাবাড়ির সভায় অভিষেক বলেন, ‘অমিত শাহ গত তিনটি নির্বাচনের সময়ে বলেছিলেন, কোচবিহারে নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন তৈরি করা হবে। চিলা রায়ের নামে প্যারা মি‍লিটারি ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করা হবে, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার নামে সংগ্রহশালা করা হবে, উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং এইমস করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কোচবিহার বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের কথাও বলেছিলেন। এর কোনওটাই হয়নি।’

    কয়েক দিন আগে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর এই সভার আগে অভিষেক কোচবিহারের শীতলখুচির সভায় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গের জন্য মোদী সরকার কী কী করেছেন, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন প্রধানমন্ত্রী নিজে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কত অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা জলপাইগুড়ির সভায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম যে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মানুষের জন্য তাঁরা কী করেছেন, একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। প্রধানমন্ত্রী এলেন, কথা বললেন এবং কোনও উত্তর না দিয়েই চলে গেলেন।’ তৃণমূলের ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতিগুলি ভোটের পরে বাস্তবায়িত করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘আমি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছি যে, তৃণমূল কংগ্রেস এখানে জিতলে দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা হবে। আমরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রও নিশ্চিত করব। আমরা ইতিমধ্যেই চা সুন্দরী প্রকল্পের অধীনে ঘর, জমির পাট্টা এবং শিশুদের জন্য ক্রেশের ব্যবস্থা করেছি। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত করুন।’

  • Link to this news (এই সময়)