এই সময়, পুরুলিয়া: শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়ার মানবাজার কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সোনামণি টুডুর মনোনয়নপত্র বাতিল করল কমিশন। এর নেপথ্যে চক্রান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাম প্রার্থী! সোনামণির পরিবর্তে এই কেন্দ্রে সিপিএমের হয়ে লড়বেন শান্তিমণি মুর্মু, যিনি সোমবারই সোনামণির সঙ্গে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
কমিশন সূত্রে দাবি, সিপিএমের তরফে দু'টি মনোনয়ন দেওয়া হয়। যে মনোনয়ন প্রথমে দাখিল হয়েছিল, সেটিই গৃহীত হয়েছে। বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসনের দাবি, নিষ্পত্তি বিধি মোতাবেক করা হয়েছে। তবে জেলা সিপিএম সূত্রের খবর, সোনামণির তফসিলি জাতিগত শংসাপত্র ঝাড়খণ্ডের। তা নিয়ে যে বিতর্কের অনুমান করেই সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে অন্য এক প্রার্থী শান্তিমণি মুর্মু মনোনয়ন জমা দেন। শংসাপত্র নিয়ে জটিলতার অনুমান করেই সোনামণি দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টের। আদালত সব নথি খতিয়ে দেখে জানায়, এ বিষয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের (এআরও) মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিল করার অধিকার রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নেয়নি দল।
সোনামণি বলেন, 'আমার জাতিগত শংসাপত্র ঝাড়খণ্ডের। তা নিয়ে আমি এই রাজ্যের সংরক্ষিত কোনও আসনে প্রার্থী হতে পারব না। কমিশনের নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, এ রাজ্যের ভোটে লতে গেলে এখানকার শংসাপত্র প্রয়োজন। বিষয়টি জানতে পেরে এই রাজ্যের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করি।' যোগ করেন, 'বিবাহসূত্রে আমি প্রায় ১১ বছর এই রাজ্যের বাসিন্দা। বিয়ের কার্ড, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র–সহ ১ এপ্রিল অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। সব নথিও জমা করি। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বান্দোয়ান ব্লক প্রশাসন জানায়, আমার আবেদন এসডিও-র কাছে পাঠানো হয়েছে। শেষমেশ শংসাপত্র পাইনি।'
তাঁর আক্ষেপ, 'মনে হচ্ছে আমি কোথাও চক্রান্তের শিকার হলাম।' বিজেপি প্রার্থী ময়না মুর্মু বলেন, 'এটা সিপিএমের দলীয় বিষয়।' তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডুর স্বামী ও জেলা তৃণমূলের সহ–সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, 'সিপিএম এত দিন ক্ষমতায় ছিল, অথচ এই শংসাপত্র সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে তাঁদের জানা ছিল না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মনোনয়ন নিয়ে এমন ভুল পদক্ষেপের বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।'