হিমন্তের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগে ঝড়, দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বাড়িতে হানা অসম পুলিসের
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: রাত পোহালেই অসমে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে বিতর্কের ঝড়। কেন্দ্রবিন্দুতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা। রবিবার কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেছিলেন, রিনিকির নামে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। করফাঁকি দিয়ে আমেরিকায় বহু কোটির বিনিয়োগ করেছেন তিনি। পালটা খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে খেরার বাসভবনে হানা দিল অসম পুলিস। দিল্লি পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে চলল তল্লাশিও। তবে ডেপুটি পুলিস কমিশনার দেবজিৎ নাথের নেতৃত্বে তল্লাশির সময় খেরা বাড়িতে ছিলেন না। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভোটমুখী অসমে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা ভোটের আবহে পুলিসের এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। ঘটনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে তোপ দেগেছে হাতশিবির।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের তোপ, খেরাকে গ্রেপ্তার করতে বিপুল সংখ্যক পুলিস মোতায়েন করা হয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী যে বিচলিত, তিনি যে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, এটা তারই প্রমাণ। কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারির কটাক্ষ, মনে হচ্ছে দিল্লিতে আইনের শাসন নেই। আর খেরার অনুপস্থিতি নিয়ে হিমন্তর কটাক্ষ, কংগ্রেস নেতা হায়দরাবাদে পালিয়ে গিয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিগুলি আসল কিনা, যাচাই না করেই কংগ্রেস জনসমক্ষে অভিযোগ করেছে। একধাপ এগিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, অসম পুলিসকে চেনে না। পাতাল থেকেও উঠিয়ে আনবে।
রিনিকি সোমবার ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন খেরার বিরুদ্ধে। এর পরদিনই দিল্লির নিজামুদ্দিনে খেরার বাড়িতে পৌঁছে যায় অসম পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। দিল্লি পুলিস তাদের সহায়তা করে। খেরার জন্য সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পুলিস। পরে পুলিসের তরফে জানানো হয়, খেরাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তল্লাশিতে বাড়ি থেকে কিছু ‘আপত্তিকর’ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন খেরা। তাঁর অভিযোগ ছিল, কর ফাঁকি দিয়ে আমেরিকায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা বাগিয়েছেন রিনিকি। তাঁর নামে মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অ্যান্টিগা ও বারবুডা—এই তিন দেশের পাসপোর্টও রয়েছে। কিন্তু, হিমন্তর নির্বাচনি হলফনামায় এসবের কোনো উল্লেখ নেই। পবনের এই অভিযোগ করার পরেই পালটা হুমকি দেন হিমন্ত। জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পবনের নামে মানহানির মামলা করবেন তিনি। তাঁকে জেলে পাঠাবেন। সেই হুঁশিয়ারির পরেই খেরার দিল্লির বাসভবনে পৌঁছে গেল পুলিস।