• রামে যাওয়া ভোট বামে ফেরাতে দিনরাত ছুটে বেরাচ্ছেন শরদিন্দু
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: কেউ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরছেন, আবার কেউ করজোড়ে নমস্কার জানাচ্ছেন। কেউ ঘাড়ে হাত দিয়ে বন্ধুর খোঁজখবর নিচ্ছেন। কারও কাছে ভাই বা দাদা, আবার কারও কাছে পাড়ার ছেলে, কারও কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী। প্রচারে বেরিয়ে ঠিক এইভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছেন শিলিগুড়ির সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাধারণ মানুষ হোক বা শিশুদের স্কুলবাসে তুলতে আসা গৃহবধূ, সকলেই এগিয়ে এসে শরদিন্দুবাবুকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। মাথা ঝুঁকিয়ে সমর্থন চেয়ে নিচ্ছেন বিনয়ী সিপিএম প্রার্থী। পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন অনেকেই। আর এতেই স্নায়ুর চাপ বাড়ছে বিজেপির। রাজনৈতিক মহলের দাবি, একুশের নির্বাচনের মতো বামেদের ভোট আর রামে নয়, বরং ফিরবে বামেই। তবে এই যুক্তিকে খুব একটা পাত্তা দিতে চাইছে না বিজেপি। 

    সিপিএমে প্রার্থী বলেন, দোরে দোরে গিয়ে মানুষের সমর্থন চাইছি। সব ওয়ার্ডেই ভালো সাড়া পাচ্ছি। এবারে বামের ভোট বামেরই থাকবে। শুধু তাই নয়, বিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের একাংশ আমাদের দিকেই ফিরবে। 

    অন্যদিকে, এই যুক্তিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি। এই প্রসঙ্গে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জীব সিকদার বলেন, সিপিএম বা বামফ্রন্ট যতদিন বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে চালাবে তারা এই রাজ্যে শূন্যই থাকবে। কোনোভাবেই বিজেপির ভোট কাটতে পারবেন না সিপিএম প্রার্থী। 

    শরদিন্দু চক্রবর্তী ১৯৯৪ সালে প্রথম শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলার হন। এরপর ১৯৯৯-২০০৪ সালে ওই আসনটি এসটি রিজার্ভ হওয়ায় সেখানে বিমলেশ মৌলিক সিপিএমের কাউন্সিলার হয়েছিলেন। এরপরে ফের ২০০৪ থেকে টাকা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রয়েছেন শরদিন্দুবাবু। পুরসভায় বামবোর্ড থাকার সময়ে মেয়র পরিষদ সদস্যও ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের বাম সদস্য হিসাবে পরিচিত শরদিন্দুবাবুর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ অতীতে ওঠেনি। কাজেই একেবারে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই সিপিএম প্রার্থীর দিকে তাকিয়ে আছেন দলের নবীন থেকে প্রবীণ প্রজন্মের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত সিপিএম প্রার্থী কতটা ভোট টানতে পারেন, তা জানা যাবে ৪ মে ভোটবাক্স খোলার পর।
  • Link to this news (বর্তমান)