ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: এসআইআরে নাম কেটে বাংলাকে রুখতে পারবে না বিজেপি। মঙ্গলবার উত্তরের মাটিতে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন কোচবিহারের নাটাবাড়ি, আলিপুরদুয়ারের বারোবিশা ও জলপাইগুড়িতে নির্বাচনি জনসভা থেকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর এসে এসআইআরের ফর্ম ভরে কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? এই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সেনাপতির তোপ, ‘উত্তরবঙ্গের মানুষ অবৈধ হলে, তাঁদের ভোটে এখান থেকে বিজেপির যেসব সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরাও অবৈধ। আর ওই সাংসদরা যাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করেছেন, সেই নরেন্দ্র মোদি অবৈধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ।’ এসআইআরে অবৈধভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে বিজেপিকে একহাত নেন অভিষেক। বলেন, ‘সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। নাম বাদ দিয়ে বাংলাকে কোনোভাবেই রুখে দেওয়া যাবে না।’ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০ মাস ধরে ভারতে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? জবাব দিন।’
বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেকের আক্রমণ, ‘বাংলাকে ধারাবাহিকভাবে অপমান করা হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললে তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটবাক্সে মানুষ এর জবাব দেবেন।’ এবারের ভোট যে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের অপমান, বঞ্চনার প্রতিশোধ নেওয়ার ভোট, তা মনে করিয়ে দেন তৃণমূল সেনাপতি। অভিষেকের বার্তা, ‘মোদি সরকার একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে, জিএসটির বোঝা চাপিয়ে মানুষের পকেট কেটে টাকা লুট করছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একের পর এক জনমুখী প্রকল্প করে মানুষকে টাকা পাইয়ে দিয়েছে।’
মোদি কোচবিহার রাসমেলার মাঠে জনসভা করলেও মদনমোহন মন্দিরে না যাওয়ায় তোপ দাগেন অভিষেক। রাজবংশীদের আবেগ নিয়ে বিজেপি দিনের পর দিন ছিনিমিনি খেলেছে বলেও দাবি তাঁর।