• বহিরাগত পদ্ম প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার ডাক
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: বহিরাগত প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। নাটাবাড়ির বিজেপি প্রার্থী গিরিজাশংকর রায় এখানকার ভূমিপুত্র নন। গত পাঁচ বছর ধরে যিনি বিধায়ক আছেন বিজেপির সেই মিহির গোস্বামী এলাকার জন্য কোনো কাজ করেননি। হেরিটেজ রোড সংস্কার, পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে পারেননি। নাটাবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী শৈলেন্দ্রনাথ বর্মা স্থানীয় মানুষ। তিনি এই বিধানসভার ১৬টি অঞ্চল হাতের তালুর মতো চেনেন। এখানকার সমস্যা জানেন। নাটাবাড়িতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে এভাবেই স্থানীয় মানুষের কাছে সমর্থন চাইলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মনের জিসিপিএ’র পদাধিকারী। বংশী-বিজেপির আসন সমঝোতায় গিরিজাশংকর বিজেপির টিকিট পেয়েছেন। 

    মঙ্গলবার নাটাবাড়ির আরএমসির মাঠ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। সভামঞ্চে উপস্থিত নাটাবাড়ির প্রার্থী শৈলেন্দ্রনাথ বর্মা ও তুফানগঞ্জের প্রার্থী শিবশংকর পাল। বেলা ১টা নাগাদ অভিষেকের হেলিকপ্টার যখন সভাস্থলের পাশের মাঠে নামে তখন জয় বাংলা’, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’শ্লোগানে মুখর গোটা এলাকা। সভা শুরুর আগে মঞ্চের পাশে স্ক্রিনে দেখানো হয় তথ্যচিত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের কোচবিহারে এসে নানা সময়ের দেওয়া পালন না করা প্রতিশ্রুতিগুলি তুলে ধরা হয়। অভিষেক বক্তৃতা দিতে পোডিয়ামে দাঁড়াতেই দর্শকাসন থেকে ভেসে আসে ‘আই লাভ ইউ’। হাত তুলে অভিভাবদন জানান তিনি। সভা শেষের আগেও আবার সেই আওয়াজ কানে আসতেই অভিষেক বলেন, ‘আই লাভ ইউ টু’। 

    অভিষেক বলেন, এখানে জোড়াফুল ফোটা সময়ের অপেক্ষা। আমরা পাঁচটি প্রতিজ্ঞা করছি। বিজেপির দীপা চক্রবর্তী বলেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবেন। প্রথম প্রতিজ্ঞা, আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞা, সবার বাড়িতে জল যাবে। তৃতীয় প্রতিজ্ঞা, ব্লকে ব্লকে দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলবে। চতুর্থ প্রতিজ্ঞা, কেন্দ্র সরকার বার্ধক্য ভাতার টাকা আটকে দিয়েছে। সমস্ত বয়স্কদের বার্ধক্য ভাতা পৌছে দেব। পঞ্চম প্রতিজ্ঞা, যত গরিব মানুষ বাড়ির আবেদন করেছেন, তাঁদের সকলকে বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। 

    তিনি বলেন,নাটাবাড়িতে বিজেপি বিধায়ক হাত গুটিয়ে থাকলেও, রাজ্য সরকার এখানে  নদীবাঁধ, রাস্তা, বলরামপুর-১, ২ অঞ্চলের মাঝে কালজানি সেতু তৈরির মতো বহু গুরত্বপূর্ণ কাজ করেছে। এছাড়াও হরিণচওড়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নাটাবাড়িতে ৮১ হাজার মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ৩০ হাজার বাংলার বাড়ি, যুবসাথীতে ২১ হাজার যুবককে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। 

    তিনি বলেন, কি অবস্থা ছিল কোচবিহারের? ২০৪টি রাস্তা হয়েছে। যার দৈর্ঘ ৩১৮ কিমি। এখানে এক পয়সাও কেন্দ্র দেয়নি। আরও ৫০ হাজার মানুষ বাড়ি পাবেন। নাটাবাড়ি, দেওয়ানহাট হাসপাতালে সিজারের ব্যবস্থা হবে। নিশীথ প্রামাণিক খেলার মাঠের কথা দিয়েছিলেন, হয়নি। আমরা করব। মোদি যখন খুশি লাইনে দাঁড় করিয়েছেন। এবার ইভিএমের বোতাম টিপে তাঁদের জামানত জব্দ করতে হবে। তুফানগঞ্জ, নাটাবাড়ি কেন্দ্রেও আমার লোকসভা কেন্দ্রের মতো কাজ করব। ব্লাড ব্যাংকের ব্যবস্থা করব। কথা দিচ্ছি আমাদের প্রার্থীরা জিতলে দশগুণ পরিষেবা পাবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)