• প্রচারে ঝড় তুলেই হঠাৎ নিষ্ক্রিয় বামফ্রন্ট! রাম-যোগ নিয়ে জেলায় জল্পনা
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর নতুন উদ্যমে ময়দানে নেমেছিল সিপিএম। প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা সেদিন থেকেই লাল ঝান্ডা হাতে প্রচার শুরু করে দেন। শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। ছোটো ছোটো পথসভাও চলতে থাকে। কিন্তু, হঠাৎ করেই যেন নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে বামেরা। এখন আর সেই ‘জোশ’ নেই। নাম কা ওয়াস্তে প্রচার চলছে। তা দেখে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করে বলছেন, ‘সেটিং হয়ে গেল না তো’? এই রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। এরাজ্যে বামেদের ভোট পেয়েই বিজেপি ফুলেফেঁপে ওঠে। রায়না, গলসি থেকে কালনা, কাটোয়া সব জায়গার ছবিটা একই রকম। রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য বামেদের তরুণ নেতাদের গলা ফাটাতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, পূর্ব বর্ধমানের তিন-চারটি বিধানসভা কেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও তারা সক্রিয় নয়।

    তৃণমূল নেতা মহম্মদ ইসমাইল বলেন, সিপিমএম আর বিজেপি একই। এখন যাঁরা বিজেপি করছেন, তাঁদের বেশিরভাগই আগে লালঝান্ডা ধরতেন। অল্প কিছু ভোট ওদের দখলে রয়েছে। সেটা ধরে রাখতেও তাদের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই ওরা প্রচার করছে না। খণ্ডঘোষের সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায় বলেন, প্রচারে খামতি নেই। আমরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। গ্রামে গিয়ে বৈঠক করছি। প্রচার মানেই বড়জনসভা বা মিছিল এই ধারণা ভুল। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূলেরও অনেকেই চাইছেন বিজেপি আসুক। সিপিএমের কর্মী এবং সমর্থকরা জানে ওদের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে তা নষ্ট করা। সেই কারণেই তারা বিজেপিকে সমর্থন করবে।

    স্থানীয়রা বলেন, বামেদের করুণ এই অবস্থা দেখলেই অবাক হতে হয়। এক সময় এই জেলার তাবড় নেতারা আলিমুদ্দিন চালাতেন। রায়না থেকে মন্তেশ্বর, সব জায়গায় লাল ঝান্ডাই শেষ কথা বলত। এখন সেই সিপিএম নেতারা ঘরে বসে রয়েছে। দলের রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য তাঁদের উদ্যোগ নেই।
  • Link to this news (বর্তমান)