নাম না উঠলে গ্রামে সব দলের প্রবেশ নিষেধ! মঙ্গলকোটের গ্রামে ব্যানার মহিলাদের
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: বৈধ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ! তাই প্রতিবাদে স্থানীয় মহিলারা গ্রামে সতর্কীকরণ পোস্টার টাঙালেন। যতদিন না ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন হবে, ততদিন গ্রামে দলমত নির্বিশেষে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনার সাক্ষী মঙ্গলকোটের চাকদা গ্রাম।
একটি বা দু’টি নয়, গ্রামে বেশির ভাগ ভোটারেরই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়। কারও বাবা ও মায়ের নাম রয়েছে তালিকায় অথচ তাঁদের দুই ছেলের নাম নেই! আবার কারও স্ত্রীর নাম থাকলেও বাদ গিয়েছে স্বামীর নাম। স্বামী-স্ত্রী দু’জনের নামও বাদ গিয়েছে। কাজেই বৈধ ভোটার তালিকা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছে গোটা গ্রাম। প্রত্যেকের বক্তব্য, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের শংসাপত্র রয়েছে। বংশ পরম্পরায় ভারতের নাগরিক। ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে নাম। তবুও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরই প্রতিবাদে এককাট্টা হয় চাকদা গ্রাম। তাঁদের ধারণা, যতদিন না নাম সংশোধন হচ্ছে, ততদিন বাসিন্দারা কেউ গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হবেন না। যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরাও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।
চাকদা গ্রামে ঢোকার মুখে ক্লাব ঘরে, খেজুরগাছে সর্বত্রই সতর্কীকরণ পোস্টার টাঙানো রয়েছে। গ্রামের সীমানায় রয়েছে কড়া পাহারা। যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মীরা সেখানে ঢুকতে না পারেন।
চাকদা গ্রামে একটি বুথ রয়েছে। ৫৩ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৭২৮ জন। তার মধ্যে শুনানি হয়েছিল ২৩৬ জনের। পরে দু’শো জনের নাম বাতিল হয়েছে। পাশের পালিগ্রামের বরুলিয়াতেও এই ঘটনা ঘটে। সেখানেও ১২১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। চাকদা গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বিবির কথায়, আমার ও স্বামী মহিদুল শেখ দু’জনের নাম বাদ দিয়েছে। সাহাদ আলি শেখ বলেন, আমার ছেলে ও বউমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শেখ আবদুর আজিজ, খাইরুল শেখ, জাহানারা বিবিরা বলেন, বহুবছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। তবুও আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব! তাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঠিক করেছি কোনও দলের নেতা, কর্মীরা গ্রামে ঢুকতেই পারবেন না। যতদিন না আমাদের নাম ভোটার তালিকায় উঠছে, গ্রামে কাউকে ভোট দিতে যেতেও দেব না। প্রয়োজন হলে রাস্তা আটকে হবে আন্দোলন। মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বলেন, গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি সঙ্গত। তাঁরা বৈধ ভোটার। এখন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিলে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এসব মানুষের জন্যই সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করছেন। এটা নির্বাচন কমিশনের তো দেখা উচিত। মঙ্গলকোটের বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ বলেন, আমরা বার বার বলেছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশন তা গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। আমি ওই গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনব।