সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পাঁচ বছর এলাকায় দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার বিকালে ভোট প্রচারে এলে ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কোতুলপুর ব্লকের পাত্রবাঁধ গ্রামে বিজেপি প্রার্থী নির্মল ধাড়ার প্রচার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। বিধায়ককে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা বললেও তিনি গাড়ি থেকে নামেননি। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এনিয়ে নির্মলবাবু কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, সরকারটা তৃণমূলের। পঞ্চায়েতের টাকা তৃণমূলের নেতারা পকেটে ঢুকিয়েছেন। মানুষ তাঁদের কাছ থেকে সরে গিয়েছে দেখে নাটক আরম্ভ করেছে।
এ ব্যাপারে ইন্দাসের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদি বলেন, মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেব আর কাজ করব না। সেটা কি হয়। এখন মানুষ অনেক সচেতন। তাঁরা জবাব তো চাইবেনই। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ২০২১ সালে আমাদের এলাকার ভোট নিয়ে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু তারপর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। এলাকায় কোনো উন্নয়ন করেননি। এদিন আবার ভোট চাইতে এসেছেন। তাই আমরা ওঁর কাছে কৈফিয়ত চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বার বার বলার পরও উনি গাড়ি থেকে নামেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকালে ইন্দাসের বিজেপি প্রার্থী নির্মল ধাড়া ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কোতুলপুর ব্লকের মদনমোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রচারে যান। তিনি একটি পিক আপ ভ্যানের মাথায় চেপে প্রচার করছিলেন। তাঁর গাড়ির সামনে ও পিছনে বাইকে করে কিছু কর্মী আসছিলেন। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু পাত্রবাঁধ গ্রামে আসার পরেই কিছু মহিলা হঠাৎ রাস্তায় বিজেপি কর্মীদের বাইক আটকান। গ্রামের রাস্তা কেন হয়নি তার কৈফিয়ত চান। বিজেপি কর্মীরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে প্রার্থীর গাড়ি সেখানে চলে আসে। এরপরেই মহিলারা প্রার্থীর গাড়ি আটকান। তাঁরা বলতে থাকেন, এতদিন কোথায় ছিলেন। পাঁচ বছরে একবারও মুখ দেখাননি। এখন আবার কেন এসেছেন। একথা শুনে নির্মলবাবু কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আসার জন্য বললেও তিনি নামেননি। বিজেপি কর্মীরা মহিলাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও মহিলারা তাঁদের অভিযোগের সুর আরও চড়ান। খবর পেয়ে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ আসার পর প্রার্থীর গাড়ি মহিলাদের বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা গাড়ির সামনে বসে পড়েন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।