কুন্তল পাল, বনগাঁ: গোটা ময়দান গানের সুরে সুর মেলাচ্ছে। তালে তালে মাথা দোলাচ্ছে। বনগাঁয় এসে এভাবেই মঞ্চ মাতালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাজুড়ে মাইকে বাজছে তাঁর লেখা গান, ‘ঢাক বাজে মাদল বাজে ধামসা বাজে রে/পাহাড় জাগে মাটি জাগে/আমার চোখে রূপসী বাংলা বিশ্বসেরা রে...’ গানটি গেয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। মঙ্গলবার বনগাঁ স্টেডিয়ামে সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সে সভায় গানের সুরে সুর মেলান হাজার হাজার মানুষ।
নিজের বক্তব্য শেষ করে রঙিন শাড়িতে সেজে থাকা আদিবাসী মহিলাদের মঞ্চে ডেকে নেন মমতা। সবুজ শাড়ি পরা, খোঁপায় রঙিন ফুল, হাতে জড়ানো সাদা ফুলের মালায় সেজে মহিলারা মঞ্চে ওঠেন। আর পায়ে ঘুঙুর ও সাদা ধুতি ও গেঞ্জি পড়ে মাথায় লাল গামছা পেঁচিয়ে মঞ্চে ওঠেন পুরুষরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল ধামসা-মাদল। সাধু গোঁসাইরা ডঙ্কা কাঁসর নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। সকলে একে অপরের হাত ধরেন। হাতে হাত ধরে নাচ শুরু হয়। নৃত্যগীতে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডঙ্কা, কাঁসর, ধামসা, মাদলের মাতাল করা সুর ছড়িয়ে পড়ে সভার কোনায় কোনায়।
সভায় এসেছিলেন বনগাঁ দেবগড়ের বাসিন্দা মতুয়া সম্প্রদায়ের খোকন কীর্তনিয়া। মমতা উপস্থিত হতেই গেটের কাছে দল নিয়ে চলে যান তিনি। ডঙ্কা কাঁসর বাজিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে স্বাগত জানান। সে সময় সভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মঞ্চে উঠতেই আওয়াজ আরও বাড়ে। বেজে ওঠে ডঙ্কা-কাঁসর। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মতুয়াদের প্রশংসা করে মমতা বলেন, ‘ওঁরা (বিজেপি) মতুয়া বিরোধী। মতুয়াদের অধিকার কাড়ার চেষ্টা করবেন না। সে চেষ্টা করলে আমার চেয়ে ভয়ংকর আর কেউ হবে না।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে আশ্বস্ত মতুয়ারা। খোকন কীর্তনিয়া বলেন, ‘আমার নাম তালিকায় থাকলেও মেয়ের নাম বাদ গিয়েছে। দিদি আমাদের পাশে যখন আছেন আমাদের চিন্তা নেই। দিদি আমাদের দেখেন। আমরাও দিদির পাশে আছি।’ নিজের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলেও মমতার সভায় এসেছিলেন কৃষ্ণ সেন। মঞ্চের সামনে বসে তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য নিজের ফোনে রেকর্ড করেন। কৃষ্ণ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের পাশে থাকেন। প্রথম থেকেই তিনি আমাদের জন্য লড়াই করছেন।’ বক্তব্য শেষে মতুয়া সাধু গোঁসাই পাগলদের মঞ্চে ডেকে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর নিজের লেখা গানে মতুয়া ও আদিবাসীদের সঙ্গে নৃত্যগীতে অংশ নেন।
এদিন দলীয় প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস, ঋতুপর্ণা আঢ্য, মধুপর্ণা ঠাকুর ও নরোত্তম বিশ্বাসের সমর্থনে বনগাঁ স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে বনগাঁর উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। বনগাঁ হাসপাতালের উন্নয়নের কথা তুলে ধরার পর বলেন, ‘বনগাঁ-পেট্রাপোল রেলপথ আমি করেছিলাম। আগামী দিনে প্রার্থীদের জয়ের পর তাঁদের মাধ্যমে বাকি কাজগুলিও করব।’