• বালু জিতলে যা যা চাইবেন, করে দেব, হাবড়ার নির্বাচনি সভায় ‘গ্যারান্টি’ মমতার
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাবড়া:  ‘বালু জিতলে যা যা চাইবেন, করে দেব!’ হাবড়ার সভা থেকে এই প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে দলনেত্রীর এভাবে দায় নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 

    মঙ্গলবার দুপুরে হাবড়ার বাণীপুর মাঠে অশোকনগরের প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী ও হাবড়ার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে সভা করেন মমতা। মঞ্চে তাঁর পাশেই ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। তাঁকে ‘পুরানো দিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী’ বলে উল্লেখ করেন নেত্রী। সভা শুরু থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। ‘বালু জিতবে, হাবড়া জিতবে’—স্লোগান ওঠে। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের উচ্ছ্বাস ও সিংহগর্জনে মমতাকে একাধিকবার বক্তব্য থামাতে হয়। বক্তৃতার শুরুতেই রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দেন মমতা। তাঁর দাবি, হিংসা করে ওঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে স্লোগান উঠতে থাকে বালুর সমর্থনে। সিপিএম ও বিজেপিকে নাম করে আক্রমণ করেন তিনি। রেশন দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মমতার অভিযোগ, ‘সিপিএম আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি হয়েছিল। প্রায় দেড় কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল। এর টাকা ওদের পার্টি ফান্ডে যেত। সেই ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বালু।’ রেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ডিজিটাল রেশন কার্ড চালুর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, ‘ওই কাজ সহজ ছিল না। কিন্তু বালু করেছে। তাই পচা সিপিএম বিজেপিকে দিয়ে বালুকে গ্রেপ্তার করিয়েছিল।’ তাঁর এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে হাততালির ঢেউ তোলে। মমতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী জ্যোতিপ্রিয়। এহেন বালুর গ্রেপ্তারি নিয়ে মমতা আরও বলেন, ‘কোনো প্রমাণ ছাড়াই ওঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ।’ 

    বক্তৃতার শেষে ফের উন্নয়নকেই মূল ইস্যু হিসাবে সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ মিনিটের বক্তৃতায় মমতা এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উন্নয়নই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। বলেছেন, ‘আমি চাই বালু হাবড়া থেকে জিতুক। আপনারা যা বলবেন, আমি তাই করে দেব। এটা আমার গ্যারান্টি।’ শুধু তাই নয়, বালুকে তাঁর ‘প্রিয় প্রার্থী’ বলে জানিয়ে মমতার ঘোষণা, ‘আমার সরকারে বালু যা ভালো কাজ করেছে, তা কেউ করতে পারেনি।’ এই ঘোষণায় আরও একবার উচ্ছ্বাসের ঢেউ ওঠে সভার জমায়েতে। সভা শেষে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট হয়ে যায়, হাবড়ার দুর্গ অক্ষত রাখতে জানকবুল লড়াইয়ে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। স্লোগানে, উচ্ছ্বাসে, জনসমাগমে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)