কগনিজেবল অফেন্সে সেদিনই এফআইআর, কড়া নির্দেশ লালবাজারের
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদালত গ্রাহ্য অপরাধের এফআইআর ঘটনার দিনই করা না হলে সাসপেন্ডের মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লালবাজারের তরফে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে সব থানায়। ‘কগনিজেবল অফেন্সের’ ক্ষেত্রে সামান্যতম গড়িমসি যেন না করা হয়। অভিযোগ ফেলে রাখার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছে তলব করা হবে।
ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, পুলিশের কাছে কমিশন থেকে নির্দেশ এসেছে নির্বাচন ঘিরে গোলমাল, অশান্তি বা হাঙ্গামা হলে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর করতে হবে। দুপক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করে ওইদিনই এফআইআর করার নির্দেশ এসেছে। যদি অভিযোগ জামিন অযোগ্য ধারায় হয়, তাহলে সেই ধারায় মামলা রুজু করবেন সংশ্লিষ্ট থানার অফিসাররা। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা মনোনয়ন জমা দেওয়ার জায়গায় বিশেষ নজরদারি কথা বলা হয়েছে। কমিশনের কাছে অভিযোগ আসছিল কলকাতার বিভিন্ন থানায় অভিযোগ এলেও ফেলে রাখা হচ্ছে। অনেক সময় সুবিধা অ্যাপে অনুমতি না নিয়ে রাজনৈতিক দল সভা-সমিতি, মিছিল, জনসভা করছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না স্থানীয় থানা। এফআইআর করা ও সুবিধা অ্যাপে অনুমতি প্রয়োজন — দুটি বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
এরপরই নড়েচড়ে বসেছেন লালবাজারের কর্তারা। সোমবার রাতে অতিরিক্ত নগরপাল (১) দেবেন্দ্র প্রকাশ সিংয়ের তরফে একটি নির্দেশিকা এসেছে সমস্ত থানায়। উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ আদালত গ্রাহ্য অপরাধের মধ্যে পড়লে, যেদিন অভিযোগ এসেছে সেদিনই এফআইআর করতে হবে। যদি কোনো অফিসার না করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে সাসপেন্ড করা হবে। সূত্রের খবর, ওসিও যদি এক্ষেত্রে দ্রুত এফআইআর না করেন তাহলে তাঁকেও একই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। থানার ওসিদের তরফে অফিসারদের কাছেও এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ৩০ মিনিটের মধ্যে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে। মঙ্গলবার সকালে ভিডিয়ো কনফারেন্সে কলকাতার সব থানার ওসিদের এই নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। পাশাপাশি সিপি বাহিনীকে বলেছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে সবাইকে ভোটের কাজ করতে হবে। যাতে কোনো রাজনৈতিক দল কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করতে পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।