ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বে অবরোধ আরাবুল-নৌশাদের, উত্তেজনা
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দু’টি পৃথক ঘটনাকে ঘিরে আন্দোলনে নামল আইএসএফ। একদিকে আরাবুল ইসলাম ও অপরদিকে নৌশাদ সিদ্দিকির অবরোধ, বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে মিছিল আটকানোর প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যানিং পূর্বের পাতিখালিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান আইএসএফ প্রার্থী। অন্যদিকে, আইএসএফ কর্মীদের মারধর ও তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগে এদিন বিকালে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী। পরিকল্পনা মতো এদিন সকালে ক্যানিং পূর্বের তাম্বুলদহ ১ ও ২ অঞ্চলের গোবিন্দনগর, নাগোরতলা, বিবিরাবাদ, বাগমারি, হাটবেড়িয়া, পাতিখালি এলাকায় পরিক্রমা ছিল আরাবুলের। মিছিল চলাকালীন মাঝরাস্তায় তাঁর গাড়ি আটকায় পুলিশ। আরাবুলকে তারা জানায়, ওই এলাকায় যাওয়ার অনুমতি নেয়নি আইএসএফ। তাই এখন তাদের যেতে দেওয়া হবে না। যদিও আরাবুল দাবি করেন যে, তিনি আগাম অনুমতি নিয়ে রেখেছেন। এই নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তারপর রাস্তা অবরোধ করেন আরাবুল। তাঁর সঙ্গে কয়েকশো কর্মী রাস্তায় বসে পড়ায় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেন আইএসএফ প্রার্থী।
অন্যদিকে, ভাঙড় বিধানসভার প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের রাজাপুরে আইএসএফ কর্মীদের মারধর ও বোমা মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বোমাগুলি না ফাটায় বড়ো ধরনের বিপত্তি ঘটেনি। তবে মারধরের জেরে বেশ কয়েকজন আইএসএফ কর্মী আহত হন। তাঁদের নলমুড়ি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি ও আরাবুল ইসলাম। এই ঘটনার প্রতিবাদে নলমুড়িতে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন নৌশাদ। যোগ দেন আরাবুলও। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা বেধে যায় দু’জনের। আইএসএফ প্রার্থী বলেন, তৃণমূল হেরে যাওয়ার আতঙ্কে বারবার অশান্তি করার চেষ্টা করছে। পুলিশ কড়া ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শওকত মোল্লা। তাঁর বক্তব্য, আইএসএফের কর্মীরা নিজেরাই পোষ্টার ছিঁড়ে অশান্তি করার জন্য আমাদের নামে দোষ দিচ্ছেন। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।