• সপ্তগ্রামের গলি থেকে রাজপথ, মাথা নীচু করে চোরাগতিতে ছুটছেন বিদেশ
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পৌরাণিক বন্দরশহর সপ্তগ্রামে আছে ত্রিবেণী সঙ্গম। বিধানসভা ভোটে এখানে ত্রিমূর্তির লড়াই। ভোট মানে জন চিত্ত জয়ের খেলা। সপ্তগ্রামে ভোটের লড়াইয়ে সত্যিকারের খোলোয়াড়ও আছেন। একদা বাংলার মাঠ কাঁপানো লেফট উইঙ্গার বিদেশ বসু এই আসনের তৃণমূল প্রার্থী। তিনি মাঠে আগেই সমর্থকদের চিত্ত জয় করেছিলেন। ২০২১ সালের ভোটের মাঠে নেমেও সফল হয়েছিলেন। এবার মাঠ পাল্টেছে। কিন্তু খেলা একই আছে। ময়দানের প্রবাদ, বিদেশ খেলতেন মাথা নিচু করে, চোখ মাটিতে রেখে। সেই রসায়নেই দ্বিতীয়বার সাফল্যের জয়তিলক পরতে ছুটছেন সপ্তগ্রামের অলিতে গলিতে-রাজপথে।

    ময়দানে বিদেশের বাম প্রান্ত ধরে দৌড় বিপক্ষকে ছত্রখান করত। এখানেও তিনি মাঠজুড়ে খেলছেন। সঙ্গে আছে বিধানসভা ভোটে জেতার অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের বিরাট কর্মীবহর। তাঁর বিপক্ষে আছেন সিপিএমের অনির্বাণ সরকার। তিনি আইনজীবী, মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বামকর্মী। কিন্তু নির্বাচন লড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। অনির্বাণ বলেন, খেলার মাঠ আর রাজনীতি এক নয়। সপ্তগ্রামের মানুষের সমস্যা অনেক। বাংলার সরকার সে সবের দিকে তাকিয়েও দেখেনি। এবার তাই লাল ফেরানোর লড়াই। বিদেশের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বীও ভোট ময়দানে আনকোরা। তিনি বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ। একদা তৃণমূল করেছেন। তারপরে ময়দানের ভাষায়, শিবির বদল করেছেন। এবার ভোট জিততে সকাল, সন্ধ্যা রামধুন গাইছেন। আছে ক্ষোভের বোঝা। হুগলিতে প্রথম তাঁর নামই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেই শুরু পদ্ম কর্মীদের অন্তর্দলীয় বিক্ষোভের। মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর তা মিটেছে, বাজি ধরে বলতে পারছেন না বিজেপি’র একাধিক দাপুটে নেতাও। যদিও স্বরাজ বলেন, ওসব সামান্য বিষয়। তৃণমূলের অপশাসনের অবসান একটি বৃহত্তর দায়িত্ব। নাগরিকরা জোট বাঁধছেন, কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ। বিদেশ অবশ্য বুলি দিচ্ছেন না। হাওড়ার উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিদায়ী বিধায়ককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সপ্তগ্রামে জয়পতাকা ধরে রাখতে পাঠিয়েছেন। এমনিতে শ্যামলা রঙ। প্রতিদিনই বিস্তর ছুটছেন। ফলে সূর্যের তাপে কালো হয়েছেন। কিন্তু অমলিন আছে হাসি আর রণকৌশল। বলেন, মাথা নিচু করে ছুটতাম বলে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের পা দেখতে পেতাম। তাতেই কৌশলটা বোঝা হয়ে যেত। আজও সপ্তগ্রামের মানুষের কাছে মাথা নত করেই যাচ্ছি। কারণ বাংলার ও বাঙালির বিরুদ্ধে একটা দল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেখানে বাংলার মাথা উঁচু করে ধরতে হবে। 

    তাঁর ফুটবল জীবনের উত্থান হয়েছিল হুগলি থেকেই। তাই হুগলির মাটিতে নির্বাচন লড়তে এসে কিছুটা স্মৃতিমেদুর, আর্দ্রও। অতীতে তাঁর গতি ছিল চর্চার বিষয়। পায়ে বল না থাকলেও এখনও গতিমান। ভোটের দৌড়েও সেই গতি আর নির্ভুল লক্ষ্যের যুগলবন্দিই উপভোগ্য। তাঁর খেলার মতোই। মুগ্ধ দর্শক, সাবেক বন্দরশহর সপ্তগ্রাম। 
  • Link to this news (বর্তমান)