জয়নগর মজিলপুর, তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন কংগ্রেসের আরও এক নেতা
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: জয়নগর- মজিলপুর পুরসভা কংগ্রেসের গড়। ৩৫ বছরের বেশি সময় এই পুরসভা ছিল কংগ্রেসের হাতে। তবে ভোটের আগে এই গড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। কারণ, কয়েকদিন আগে পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলার মনুজেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী তৃণমূলে যোগ দেন। সূত্রের খবর, এরপরে পুরসভার আরও এক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জয়নগর বিধানসভার এক শীর্ষ তৃণমূল নেতা বলেন, যোগদান এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। শহরে বদল হবে পরিস্থিতি। যদিও কংগ্রেসের ওই নেতা এখনই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তিনি বলেন, এখন ওই রকম কিছু ভাবছি না। কিছু হলে জানতে পারবেন। এদিকে এই নিয়ে জয়নগরের সিপিএম প্রার্থী অপূর্ব প্রামাণিক বলেন, এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে ওটাই ওই দলের স্বভাব। বিজেপি প্রার্থী অলোক হালদার বলেন, কংগ্রেস থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিজেপির উপর ভরসা করছেন পুরসভার মানুষ। যদিও তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিরাট ভুল সিদ্ধান্ত হবে।
জয়নগর- মজিলপুর পুরসভা দীর্ঘ ৩৫ বছর কংগ্রেসের দখলে ছিল। ২০২২ সালে পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা দখল করে। পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এখনও কংগ্রেসের দখলে। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাসের ভোটের প্রচারের মাঝে তৃণমূলে যোগ দেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের কংগ্রেসের কাউন্সিলার। তিনি আবার কংগ্রেসের ওই নেতার ঘনিষ্ট। আর এই যোগদানের পরেই পুরসভার এক সময়ের কংগ্রেসের শীর্ষ পদাধীকারীর তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে এনিয়ে কংগ্রেসের কোনো নেতা কিছু বলতে চাননি। জয়নগর বিধানসভার তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, যদি যোগদান হয় তাহলে পুরসভা এলাকায় দলীয় সংগঠন আরও ভালো হবে। পাশাপাশি, কংগ্রেসের আর চিহ্ন থাকবে না পুরসভা এলাকায়। আর সিপিএম ও বিজেপি এটাকে কটাক্ষ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, কংগ্রেস পুরসভা ভোটের পর থেকেই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। ওই কংগ্রেস নেতা যে তৃণমূলে যেতে পারেন, তা বোঝা যাচ্ছিল। কারণ, জয়নগরের অনেক অনুষ্ঠানেই ওই কংগ্রেস নেতা ও জয়নগরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ককে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।