• ভিনরাজ্যের বদলে এলাকায় কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, তৃণমূলের ফোকাস শিল্পের হাব
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আগামীর গন্তব্য হিসাবে উঠে আসছে ডোমজুড়। শিল্প ও কর্মসংস্থানের এই বার্তাকে সামনে রেখেই বিধানসভা এলাকায় জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ডোমজুড়ে গড়ে ওঠা জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক, হোসিয়ারি পার্ক এবং ইনফ্রা পার্ক যেভাবে গ্রামীণ হাওড়ায় কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখিয়েছে, সেই সাফল্যকে হাতিয়ার করেই প্রচারে নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। তাঁর বক্তব্য, ডোমজুড় থেকে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়ার দিন শেষ। এখন এখানেই দক্ষ কারিগর হিসাবে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 

    রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগ তুলে বিজেপি যখন শাসকদলকে আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন ডোমজুড়ের শিল্প সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে পালটা জবাব দিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, গত এক দশকে এলাকায় একাধিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে ওঠায় ব্লকের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত হয়েছে। বিশেষ করে অঙ্কুরহাটিতে গড়ে ওঠা জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক করোনা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এক সময় ভিন রাজ্যে স্বর্ণশিল্পের কাজে চলে যাওয়া বহু দক্ষ শ্রমিক ফিরে এসেছেন এখানে। চেন্নাই, মুম্বই, রাজস্থান, বেঙ্গালুরু এমনকি দুবাই থেকেও কারিগররা ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন ডোমজুড়ে। বর্তমানে এই পার্কে ৩৫টি সংস্থা কাজ করছে, যার মধ্যে সোনা ও হীরের গয়না তৈরির ১৮টি বহুজাতিক এবং ১৭টি দেশীয় ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন এখানে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করছেন ডোমজুড়ের তৃণমূল প্রার্থী। পাশাপাশি জগদীশপুর মৌজায় ১২৫ একর জমির উপর গড়ে ওঠা ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারি পার্ক ও আধুনিক ইনফ্রা পার্কও গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়িয়েছে।

    বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি  প্রচার করছেন, ডোমজুড়ে পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে, যেখানে আরও বড়ো শিল্পপার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। নির্বাচনে জয়ী হলে শিল্পোদ্যোগীদের জমি পাওয়ার সমস্যা দূর করা হবে। পরিকাঠামোগত সমস্ত সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার সঙ্গে সংলগ্ন জনবসতিতে নিকাশি বা অন্যান্য সমস্যার দিকেও নজর দেওয়া হবে।’ নির্বাচনি প্রচারে তৃণমূলের এই শিল্পোদ্যোগী নীতি বেকায়দায় ফেলেছে বিজেপিকে। যদিও বিজেপি প্রার্থী 

    গোবিন্দ হাজরার কটাক্ষ, ‘যে রাজ্যের শিল্প বলে কিছুই নেই, সেখানে তৃণমূলের এসব প্রচার স্রেফ ভোটের গিমিক।’
  • Link to this news (বর্তমান)