নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটির ভোট যুদ্ধ তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইট। সেই যুদ্ধের দিকনির্দেশ দিতে বৃহস্পতিবার আগরপাড়ার উষুমপুর বটতলা মাঠে জনসভা করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সভার আগে সাজোসাজো রব পানিহাটিতে। উৎসাহে ফুটছে তৃণমূল কর্মীরা। শুধুমাত্র পানিহাটি থেকে ২০ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে তৃণমূল। কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্ট্রিট কর্নার ও মিছিল করা হচ্ছে। গত বিধানসভা ভোটের ব্যবধান ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, পানিহাটিতে তৃণমূলের পরাজয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
পানিহাটি বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৯৬ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে জয়লাভ করেছিলেন নির্মল ঘোষ। এরপর তৃণমূলের টিকিটে ২০০১ সালের জেতেন। তবে ২০০৬ সালে তিনি হেরে যান। আবার ২০১১ সালে জেতেন। তারপর থেকে টানা জিতছেন। এবার নির্মলবাবুর বদলে তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে।
লোকসভা বা বিধানসভার নির্বাচনে পানিহাটিতে বরাবরই লিড পায় তৃণমূল। এবার এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে আরজি কর কাণ্ডে মৃত তরুণীর মা রত্না দেবনাথ। সিপিএমের প্রার্থী আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ কলতান দাশগুপ্ত। ভোটের প্রচার যত গড়াচ্ছে বিরোধীদের প্রচারের একমাত্র ইস্যু হয়ে উঠছে আরজি কর। এর ফলে গত দেড় দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, পরিকাঠামোগত সমস্যা পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। যা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। এছাড়া বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে যে ভাষায় অপমান করেছেন তার প্রভাব পড়েছে মারাত্মক। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সাধারণ মানুষও। ফলে শ্লেষ ও কটাক্ষ চলছে বিজেপি প্রার্থীর প্রতি। তৃণমূল কর্মীরা নাওয়াখাওয়া ভুলে লিড বাড়ানোর অঙ্কে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিককে রাজ্য থেকে এই কেন্দ্রের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় পার্থ পানিহাটি শহরে দু’টি কর্মিসভা করেন। দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দিয়ে যান। আরও বেশি করে মানুষের কাছে যাওয়া, মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে কদর্য ভাষায় আক্রমণের বিষয়টি তুলে ধরার কথা বলেন। এবারের লড়াই যে সম্মানরক্ষার লড়াই সে বার্তাও দেন।
পানিহাটি পুর এলাকা থেকে ২০ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে এর থেকেও বেশি মানুষ হাজির হবেন। তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, পানিহাটিতে তৃণমূলের ভিত অনেক শক্ত। দলনেত্রী সম্পর্কে বিজেপি প্রার্থীর অপভাষা ব্যবহার করেছেন। মানুষ সেসব শুনেছেন। এর জবাব দিতে মানুষ জোটবদ্ধ হচ্ছে।
যদিও বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, পানিহাটিতে তৃণমূলের লুটতরাজে মানুষ অতিষ্ট। নিকাশি, জঞ্জাল, রাস্তা, আলোর পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। পানিহাটির ঘরের মেয়েকে আরজি করে নৃশংস খুন ও প্রমাণ লোপাটে তৃণমূল জড়িত। মানুষ এবার তৃণমূলকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল ও সিপিএমের বাইনারি ভেঙে গিয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে জনতার উপস্থিতি দেখে ওরা ভয় পেয়েছে। এই কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী শেষ হাসি হাসবেন।