‘অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ হিসাবে চিহ্নিত টালিগঞ্জ, কসবা ও বেলেঘাটা
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগের নির্বাচনে কি বুথে গণ্ডগোল হয়েছিল? ভোটারদের শাসানি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল? এসবের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে বিগত নির্বাচনগুলিতে যদি কোনো বিধানসভা এলাকায় ভালো পরিমাণ টাকা, মদ ও গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়, তখন সবদিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাকে অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। কমিশনের এই নিয়ম প্রয়োগ করে এবার কলকাতা শহরের তিনটি বিধানসভাকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্র তিনটি হল টালিগঞ্জ, কসবা এবং বেলেঘাটা।
কসবা নিয়ে বরাবরই মাথাব্যথা ছিল পুলিশ-প্রশাসনের। কারণ, আগে এই বিধানসভা এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই বিধানসভা কেন্দ্রের ইতিহাস বিচার করে গত লোকসভা নির্বাচনে শুধু কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রেই নিয়োগ করা হয়েছিল দু’জন ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’। এবারও বাড়তি নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে। সেই সঙ্গে রয়েছে টালিগঞ্জ ও বেলেঘাটা। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এসব এলাকার অপরাধের রেকর্ড ঘেঁটে দেখছেন। বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে আলোচনা করার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এই তিন কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে আবারও সব পুলিশ পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন এজেন্সি, যেমন আয়কর বিভাগ, নারকোটিক্স, ইডি ইত্যাদির সঙ্গে বৈঠক করবেন কমিশনের কর্তারা। তখন আবারও বাজেয়াপ্ত টাকা ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব করা হবে। যদি কোনো বিধানসভাকে অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসাবে ঘোষণা করতে হয়, সেটা করবে কমিশনই। জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘একটি বিধানসভা এলাকায় গত এক বছরে কত টাকা, মদ ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। সঙ্গে পুলিশের তথ্যও বিচার করা হয়। আপাতত টালিগঞ্জ, কসবা এবং বেলেঘাটায় নিশ্চয়ই প্রচুর অর্থ বা মাদক পাওয়া গিয়েছে। তাই এই বিধানসভাগুলিকে বিশেষ তকমা দেওয়া হয়েছে।’