• মার্জিন বৃদ্ধির অঙ্ক কষছে তৃণমূল কংগ্রেস আদা জল খেয়ে নেমেছে গেরুয়া শিবিরও
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌম্যজিৎ সাহা, বারুইপুর: তিনদশক আগের কথা। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা আসনে টানা তিনবার জিতে রেকর্ড করেন বাম নেতা হেমেন মজুমদার। যুগ্মভাবে এখন সেই কৃতিত্ব রয়েছে তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। 

    ২০১১ থেকে তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক। আসন্ন নির্বাচনে জিতলে বারুইপুর পশ্চিমের ইতিহাসে সর্বাধিক জয়ের নজির গড়বেন বিমানবাবু। কিন্তু তৃণমূল এখন যত না তাঁর জয় নিয়ে ভাবছে, তার থেকে বেশি মার্জিন বৃদ্ধি করাকেই পাখির চোখ করে এগোচ্ছে। কারণ তাদের দাবি, মানুষ বিমানবাবুকেই চায়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে প্রচার চলছে। নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে কতটা মার্জিন বাড়বে, তারই এখন যোগ-বিয়োগের অঙ্ক কষা হচ্ছে। 

    এদিকে, তৃণমূলের হিসেব ওলট-পালট করে দিতে আদাজল খেয়ে নেমেছে বিজেপি। স্থানীয় সমস্যা মানুষের কাছে তুলে ধরছে তারা। জিতে এলে সেসবের নিরসন করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী। গত নির্বাচনে তৃতীয় স্থানাধিকারী সিপিএমের ভোট একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। স্বভাবতই এলাকাবাসীদের প্রশ্ন, এবারও তারা কি কোনো বেগ দিতে পারবে? তৃণমূল ও বিজেপি অবশ্য বামেদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।

    এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বারুইপুর পুরসভার ৫-৬টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেখানে কীভাবে লিড বাড়ানো যায়, তার দিকেও নজর দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। এলাকাবাসীদের অসুবিধা, অভাব-অভিযোগ শুনে তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে এই আসন থেকে বিমানবাবু ৬২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এবারে সেই ব্যবধান বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য। ২০১৬ সালে যেখানে সিপিএম ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, পাঁচবছর পর সেই ভোটের হার কমে দাঁড়ায় ৪ শতাংশে। বিরাট উত্থান হয়েছে বিজেপির। এই পরিসংখ্যান তাদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে বলে দাবি কর্মী-সমর্থকদের।

    বারুইপুর পশ্চিমের পুর এলাকা ছাড়াও গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষজনের বক্তব্য, প্রয়োজনে বিধায়ককে পাওয়া যায়। প্রতি রবিবার তিনি এখানে বসেন। তাছাড়া এলাকার হাল বুঝতে পরিদর্শনও করেন মাঝেমধ্যে। পরিষেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ না-থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পানীয় জলের সামান্য সমস্যা রয়েছে বলে দাবি অনেকেরই। সেটা অবশ্য মানছে তৃণমূল নেতৃত্ব। 

    বিমানবাবু বলেন, যেটুকু সমস্যা রয়েছে ভোট মিটলেই তা সমাধান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার জল জীবন মিশনে টাকা বন্ধ করে দেওয়ায় আরো বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে, প্রচারে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না পদ্মপার্টিও। তাদের দাবি, ২০২১ সালে যে ব্যবধানে তৃণমূল জিতেছিল সেটা লোকসভা ভোটে কমেছে। এবার এসআইআর হয়েছে। অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। তাই তৃণমূল যতই ভোটবৃদ্ধির কথা বলুক না কেন, কিছুই হবে না। 

    বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, এটা ওদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। কর্মীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এসব বলছে। বাস্তবে এসব কিছু হবে না। তাঁর পালটা দাবি, জিতে এলে বারুইপুরে হিমঘর থেকে শুরু করে ফলচাষিদের জন্য পৃথক বাজার, যানজট মুক্ত শহর নির্মাণসহ বিবিধ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বিমনবাবুও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যত অর্ধসমাপ্ত কাজ রয়েছে সেগুলি শেষ করার পাশাপাশি হিমঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য কাজও হবে।

    এদিকে, বাম প্রার্থী প্রচার সারলেও শেষমেশ কত ভোট তিনি টানতে পারবেন, বারুইপুর পশ্চিম জুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে তা নিয়েই। তৃণমূলের মার্জিন বৃদ্ধির ব্যাপারটি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি। তিনি বলেন, ওরা হিসাবের স্বপ্নই দেখুক। বিধায়ককে রবিবার ছাড়া তো পাওয়াই যায় না। শহরের মানুষ জানে, কী কাজ এখানে হয়েছে। রাস্তা খারাপ থেকে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। বারুইপুর পশ্চিমে এবার বদল হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)