অনুমতি ছাড়া নেতাজির পৈতৃক ভিটেতে ঢোকার চেষ্টা বিজেপির
বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈতৃক ভিটেতে প্রবেশ করা নিয়ে সংঘাতে জড়াল তৃণমূল ও বিজেপি। যা নিয়ে তুঙ্গে সোনারপুর দক্ষিণের ভোট যুদ্ধ। শুরু হয়েছে দুই দলের তরজা। তৃণমূল পরিচালিত রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাসের বিরুদ্ধে ওই বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া পার্টির। পালটা বিজেপিকে নিশানা করেছেন চেয়ারম্যানও। তিনি বলেন, ভিতরে ঢুকতে গেলে নেতাজি কৃষ্টি কেন্দ্র অথবা বসু পরিবারের কাছে অনুমতি নিতে হয়। সেটা ওরা নেয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দল ও আমায় কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
দিন কয়েক আগে সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কয়েকজন দলীয় কর্মীকে নিয়ে কোদালিয়ায় নেতাজির পৈতৃক বাড়িতে আসেন। সেখানে তালা দেওয়া ছিল। কেয়ারটেকারকে গেট খুলতে বলা হলে, তিনি জানিয়ে
দেন, অনুমতি ছাড়া গেট খুলতে পারবেন না। ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের কর্মীরা। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তাতে বিজেপি প্রার্থীকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, আমরা অনুমতি নিয়ে এসেছিলাম। তবুও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেয়ারটেকার আমাদের জানালেন, চেয়ারম্যানের নাকি অনুমতি নেই। আপনারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ব্যবহার করলেন, মানুষ আপনাকে ভোটে জবাব দেবে। এর পাশাপাশি ওই কেয়ারটেকারকেও নানাভাবে শাসানি দিতে দেখা যায় এক কর্মীকে। এছাড়াও নানা বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তাহলে কি সত্যিই অনুমতি দেওয়া হয়নি? সেই প্রশ্নও ওঠছে। যদিও বিজেপির যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তিনিও পালটা এক ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ২৩ ও ২৬ জানুয়ারি এবং ১৫ আগস্ট জনসাধারণের জন্য এই পৈত্রিক ভিটে খুলে দেওয়া হয়।
কিন্তু অন্যান্য দিনে কেউ ভিতরে ঢুকতে গেলে তাঁকে হয় বসু
পরিবার, না হলে নেতাজি কৃষ্টি কেন্দ্রের কাছে অনুমতি নিতে হয়। আমি এই কৃষ্টি কেন্দ্রের সম্পাদক। বিজেপি দিন কয়েক আগে এখানে অভিযোগ করে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাস্তবে তাদের
পক্ষ থেকে ভিতরে ঢোকার লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়নি। প্রার্থীকে ভুল বিভ্রান্ত করেছেন দলের লোকেরাই।