নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে এক বিজেপি নেতাকে দেখা গিয়েছিল। তার সচিত্র প্রতিবেদন বর্তমানে গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত হয়েছে। সেই ছবি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করল তৃণমূল। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কুণাল ঘোষ দাবি করেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে বলে আসছি— যে ভারতের নির্বাচন কমিশন অনেক আগেই তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং তারা কেবল বিজেপির নির্দেশেই কাজ করছে। তারা বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। একাধিক ঘটনাপ্রবাহ আমাদের এই সন্দেহকে বাস্তবে রূপদান করেছে।
এরপরই তৃণমূল নেতৃত্ব ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, নন্দীগ্রামের কালীচরণপুরের বিজেপির অঞ্চল কনভেনার তপন কুমার মহাপাত্র নামে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে ওই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যেখানে খুশি যেতে পারেন, তা আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। তবে নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে একজন রাজনৈতিক কর্মীর এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা অযাচিত প্রভাবের গুরুতর আশঙ্কা তৈরি করে এবং নিরপেক্ষতার ধারণাকে ক্ষুণ্ণ করে।
এর আগে কমিশন নিযুক্ত পাঁচ জন অফিসারের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল তৃণমূল। যাঁদের পরিবারের লোকজন বিজেপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে অভিযোগ সামনে এনেছিল রাজ্যের শাসক দল। এমনকি যাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরকেও কমিশন এই নির্বাচনের কাজে বিভিন্ন পদে বসিয়েছে, এমনটাও তথ্য সামনে আনা হয়েছিল। নেতৃত্বের দাবি, আসলে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ রূপে বিজেপির হয়ে কাজ করছে। বিজেপি হারতে চলেছে, তাদের কোনও সংগঠন নেই। মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, এর আগে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা সবাই দেখেছেন। বিজেপির বহু কর্মী খুন হয়েছিলেন। এখন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিক যদি কোনো এলাকায় যান কিংবা আক্রান্ত কোনো বাড়িতে খোঁজ নিতে যান, সেটা আধিকারিক যথাযথ মনে করেছেন বলেই গিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে।