• ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে গিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে টানাটানি, সঙ্কট বালুরঘাটে
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • রূপক সরকার, বালুরঘাট

    'সার'-এর কারণে বহু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এর জন্য আদালত থেকে করতে হচ্ছে এফিডেভিট। তার জন্য প্রয়োজন সরকারি স্ট্যাম্প পেপার। বর্তমানে বালুরঘাটে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার অপ্রতুল। যার কারণে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। স্ট্যাম্প পেপার কিনতে সকাল থেকেই বালুরঘাট জেলা আদালতে বিশাল লাইন পড়ছে।

    দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৫৮ জন ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় ছিল। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৪৯০ জনের নাম উঠেছে এবং ৭৬ হাজার ৭৬৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা নাম তুলতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করছেন। এর জন্য সরকারি স্টাম্প পেপারের সব থেকে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে। একসঙ্গে স্ট্যাম্প পেপারের চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তপন ও কুমারগঞ্জ থেকে আসা জালাল হোসেন ও নুর ইসলাম মোল্লা বলেন, 'সার'-এ আমাদের নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে এফিডেভিটের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে একটা ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেয়েছি। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।'

    এ নিয়ে বিজেপির গঙ্গারামপুর বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপির প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায় বলেন, '১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। এর পেছনে যোগসাজশ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির মুখে পড়ে ও নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করে।' যদিও বালুরঘাট টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, 'ভোটার লিস্টে নাম তুলতে এফিডেভিটের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। যার কারণে স্ট্যাম্প পেপারের প্রয়োজন হচ্ছে। আগে আমাদের বালুরঘাট জেলা আদালতে দিনে ১০০টা এফিডেভিট হলে এখন সেই সংখ্যাটা বেড়ে ১০০০-১২০০ হয়ে যাচ্ছে। বিজেপি যে কৃত্রিম সংকটের কথা বলছে তা ভিত্তিহীন।' এ বিষয়ে বালুরঘাট জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন, 'সপ্তাহে প্রায় ১০০টি করে স্ট্যাম্প আমরা পাচ্ছি। চাহিদা থাকলেও স্ট্যাম্প পাচ্ছি না। সরকারের তরফ থেকে সাপ্লাই কম হচ্ছে। তার জন্যই সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।' সারা বাংলা স্ট্যাম্প ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি সঞ্জয় রায় বলেন, 'বর্তমানে ১০ টাকা স্ট্যাম্পের চাহিদা বেশি, কিন্তু সাপ্লাই কম। তবে ২০ টাকার স্ট্যাম্প পর্যাপ্ত রয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)