• অভাবে ৪৫ দিনের সন্তানকে বিক্রি মায়ের! তদন্তের নির্দেশ পুলিশকে
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: সংসারে চরম অনটনে ৪৫ দিনের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন মা! এমন গুরুতর অভিযোগে ক্ষোভের থেকেও বিস্ময় ধরা পড়ল বিচারপতিদের গলায়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের আর্তনাদ, কোথায় গেল মা–বাবার স্নেহ–ভালোবাসা! তার পরেই আদালত হাওড়ার সাঁকরাইল থানাকে অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আগামী মে মাসের মধ্যে সাঁকরাইল থানার পুলিশকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাইকোর্টে।

    পুলিশ গোপন সূত্রে সন্তান বিক্রির খবর পেয়ে গত বছর ৬ মে সাঁকরাইলের এক পাড়ায় হানা দেয়। সেখানে এক দিনমজুর পরিবারে দেড়মাস আগে নতুন সন্তান এসেছিল। পুলিশ গিয়ে একটি ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে একটি চুক্তিপত্র উদ্ধার করে। সেই চুক্তিপত্রে সই করে মা ৪৫ দিনের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানতে পারে পুলিশ। পুলিশ ওই শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে। মায়ের নাম করে চুক্তিপত্রে লেখা ছিল, অন্য এক ব্যক্তিকে দেড় মাসের সন্তানকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সন্তানের প্রতি কোনও অধিকার দাবি করা হবে না। পুলিশ শিশুটিকে লিলুয়া হোমে পাঠায়। এর পরে জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বিধি মেনে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই খবর পেয়ে মা কলকাতা হাইকোর্টে সন্তানের হেফাজত চেয়ে মামলা দায়ের করেন।

    প্রথমে মামলা ওঠে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে। বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বাচ্চাটিকে কোথাও হস্তান্তর করতে পারবে না। পরে মামলা স্থানান্তর হয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। পুলিশের থেকে যাবতীয় তথ্য শোনার পরে ও নথি দেখে বিচারপতি বসাকের হতাশ মন্তব্য, ‘একজন মা তাঁর সন্তানকে বেচে দিচ্ছেন! কী অবস্থা সমাজের।’ মায়ের কাছে সন্তান ফেরানোর আবেদন উড়িয়ে আদালতের বক্তব্য, মায়ের কাছে ফেরানো হলে আবার েয তিনি বেচে দেবেন না, তার কি গ্যারান্টি? এর পরেই আদালত পুলিশকে মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়।

    অভিযুক্ত মায়ের আইনজীবী বলেন, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা ঠিক, সে সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করব না। তবে আদালত যে কোনও শর্তে এবং নজরদারিতে মায়ের হেফাজতে সন্তানকে দিতে পারে। হাইকোর্টের বক্তব্য, আগে মায়ের বিরুদ্ধে ওটা অভিযোগের সঠিক তদন্ত হোক, তার পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)