এই সময়, শিলিগুড়ি: সকালে রোদ উঠতেই বাড়ি ফেরার আশায় চনমনে ছিলেন পর্যটকরা। জওয়ানরা ডঙকিয়া লা-র পাহাড়ি রাস্তায় জমে থাকা তুষার সরাতে শুরু করেন। প্রশাসনের নির্দেশে অনেকে রাস্তায় নেমে জিপে উঠে বসেন। কিন্তু সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ফের বৃষ্টি এবং স্নো-ফল শুরু হওয়ায় লাচেনে আটকে থাকা পর্যটকদের গ্যাংটকে ফেরার আশা মাটি হয়ে যায়। গত রবিবার চুঙথাও থেকে লাচেনে যাওয়ার পথে তারেম চু নদীর উপরে তৈরি সেতুর কাছে প্রায় একশো মিটার সড়ক ধসে নীচে নেমে যাওয়ায় লাচেনে আটকে পড়েন কয়েকশো পর্যটক।
তার মধ্যে জিপে চড়ে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক যেমন রয়েছেন, তেমনই বাইকারদেরও কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। সোমবার তাঁদেরও লাচেন থেকে গুরুদোঙমার লেক, ডঙকিয়া লা পাস, জিরো পয়েন্ট, লাচুং হয়ে গ্যাংটকে ফেরানোর প্ল্যান হয়। কিন্তু দিনভর গুরুদোঙমার লেক এবং ডঙকিয়া লা এলাকায় স্নোফলের জেরে পর্যটকদের ফেরাতে পারেনি মঙ্গন জেলা প্রশাসন। মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন নিজে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে ডঙকিয়া লা চলে যান। ফের স্নো-ফল সেই আশায় জল ঢেলে দেয়। লাচেনে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন টুইঙ্কল সরকার। এ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, 'কবে ফিরতে পারব সেটাই বুঝতে পারছি না। গাড়িতে ওঠার পরেও হোটেলে ফিরতে হলো।'
তবে প্রশাসন একেবারেই হাল ছেড়ে দেয়নি। আবহাওয়ার উন্নতি না-হলে তারেম চু-র রাস্তা দিয়েই পর্যটকদের ফেরানোর বিকল্প পরিকল্পনা চলছে। সেতুর মুখে রাস্তার যে অংশটি ধসে গিয়েছে, সেখানে অস্থায়ী পায়েচলা ব্রিজ তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। টানা দু'বছরে ধরে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির পরেও কেন আচমকা রাস্তা ধসে পড়ল তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে টানা মৃদু ভূমিকম্পের ফলেই পাহাড়ে ফাটল হয়ে এই ধস। অনেকে আবার মনে করছেন, চলতি মাসে উত্তর সিকিমে টানা বৃষ্টির জেরে পাথরের উপরে তৈরি টপ সয়েল ধুয়ে গিয়ে ধস নামতে পারে। সিধো-কানহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ বেরা বলেন, 'ভূমিকম্প হয়তো একটা কারণ। তবে পাহাড়ি রাস্তার মাটি অতিবৃষ্টিতে ধসে গিয়েই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকতে পারে।' রাতে জানা গিয়েছে, তারেম চু খোলার কাছে ধসবিধ্বস্ত অংশে কাঠ ও দড়ির সাহায্যে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছে লাচেন ডোমসা এবং মঙ্গন জেলা প্রশাসন। আবহাওয়া ভালো থাকলে আজ, বুধবার এই পথেই আটকে পড়া পর্যটকদের গ্যাংটকে ফেরানো হবে।