‘আমি তো মজুর’, মাটির কাছেই থাকতে চান শামি! নাইট-যুদ্ধে লখনউ পেসারের শক্তি ‘কর্মভূমি’ ইডেন
প্রতিদিন | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কালো টি শার্ট। নীল জিন্স। মাথায় কালো টুপি। মহম্মদ শামিকে আরও বেশি ঝরঝরে দেখাচ্ছিল। আগামিকাল ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে নামবেন। মঙ্গলবার সন্ধেয় বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেলে এসেছিলেন সিএবির অনুষ্ঠানে। এই শহর তাঁর নিজের শহর। ইডেন তাঁর ঘরের মাঠ। একটা কথা বলে দেওয়াই আগামী বৃহস্পতিবার কেকেআর বনাম লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচে ঘরের টিম নাইটদের যেমন সমর্থন থাকবে, তেমনই ঘরের ছেলের জন্যও গলা ফাটাবে ইডেন।
শামি নিজেও আত্মবিশ্বাসী। ইডেনে বহু ম্যাচে খেলেছেন। জানেন এখানকার কন্ডিশন। জানেন ইডেনের উইকেট। মঙ্গলবার সামি বলছিলেন, “ইডেন আমার ঘরের মাঠ। এখানে বহু ম্যাচ খেলেছি। সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ হোক কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আইপিএলেও খেলেছি। আমি জানি ইডেনের পরিবেশ কেমন। এখানকার উইকেট কেমন। সেটা অবশ্যই সাহায্য করে। দেখুন, নিজের শহরে খেলার একটা সুবিধা তো রয়েছে। সেটা অবশ্যই আমাকে সাহায্য করবে। তবে কেকেআর এখানে বেশ কিছুদিন ধরে রয়েছে। প্র্যাকটিস করেছে। ম্যাচ খেলেছে। তাই ওদের সুবিধা বেশি।” তারপরই একগাল হাসি। শামি যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন পাশেই বসে কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং।
আমি কৃষকের পরিবারে জন্মেছি। কখনও নিজের শিকড় ভুলিনি। আমি উত্তরপ্রদেশে জন্মেছি ঠিকই, তবে বাংলা আমার কর্মভূমি। যতদিন খেলব, বাংলার হয়েই খেলব।
সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করেছেন শামি। চার ওভারে মাত্র নয় রান দিয়ে দুই উইকেট। ম্যাচের সেরা তিনি। এবারের আইপিএলের শুরু থেকেই ছন্দে শামি। তবু জাতীয় দলে ‘ব্রাত্য’। তাঁর সংযোজন, “আমরা তো মজুর শ্রেণির লোক। আমাদের কাজ শুধু বল করে যাওয়া। জীবনে উত্থান-পতন আসবে। চোট-আঘাত থাকবে। কিন্তু কখনও পরিশ্রম করা ছেড়ো না। যদি জীবনে শখকেই গুরুত্ব দেও, তাহলে সেগুলো তোমার দুর্বলতা হয়ে যাবে। আমি তো কৃষকের পরিবারে জন্মেছি। কখনও নিজের শিকড় ভুলিনি। আমি উত্তরপ্রদেশে জন্মেছি ঠিকই, তবে বাংলা আমার কর্মভূমি। যতদিন খেলব, বাংলার হয়েই খেলব। আমার মধ্যে এখনও একইরকম খিদে রয়েছে। আমার কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট এখনও একইরকম প্রাধান্য পায়। যদি সুযোগ পাই, তাহলে রনজি ট্রফিতে খেলে যেতে চাই।”