• রিঙ্কুকে এত পরে নামাচ্ছ কেন, নাইট নেতা রাহানেকে প্রশ্ন সৌরভের
    প্রতিদিন | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে একেবারে চাঁদের হাট। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে তো ছিলেন। সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেটের বহু নক্ষত্র। ঋদ্ধিমান সাহা, মনোজ তিওয়ারি, দীপ দাশগুপ্ত, ঝুলন গোস্বামী, উৎপল চট্টোপাধ্যায়রা হোটেলের বল রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে। খানিকক্ষণের মধ্যেই চলে এলেন কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে, সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং। মিনিট দশেকের মধ্যে ঢুকলেন মহম্মদ শামিও।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় ঘণ্টা দু’য়েকের ছিমছাম অনুষ্ঠান। তাতেই ঢাকে কাঠি পড়ে গেল বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের নতুন সংস্করণের। এদিন সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মঞ্চে ডেকে সংবর্ধিত করা হল। এখানে বলে রাখা ভালো, গত দুই সংস্করণে মোট আটটা টিম ছিল। এবছর নতুন এক টিমের অন্তর্ভুক্তি ঘটল। অর্থাৎ ন’টা টিম নিয়ে এবার টি-টোয়েন্টি লিগ হবে। আগামী ২৭ এপ্রিল টুর্নামেন্টের ড্রাফটিং। সামনের বছর থেকে অবশ্য নিলামের ভাবনা-চিন্তা রয়েছে সিএবি কর্তাদের। আইপিএলে যেমন নিলাম হয়, ঠিক তেমনই সামনের বছর থেকে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগেও নিলাম শুরু হবে। মহম্মদ শামি গতবছর খেলেননি। এবার তাঁরও টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার ইচ্ছে রয়েছে।

    এদিনের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ অবশ্যরই বঙ্গ ক্রিকেটের তিন নক্ষত্র সৌরভ-ঝুলন-শামির সঙ্গে রাহানে আর রিঙ্কুকে নিয়ে হওয়া টক শো। ঝুলন যেমন বলছিলেন, “মহিলা ক্রিকেট এখন আরও উন্নত হচ্ছে। এমন টুর্নামেন্টের ফলে মহিলা ক্রিকেটের প্রসার ঘটছে। এখানে ক্লাব ক্রিকেটও শুরু হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে এল এবার আইপিএলে কেকেআরের প্রসঙ্গও। যেখানে নাইট ক্যাপ্টেন রাহানের কাছে একটা অনুরোধ করেন সৌরভ। সিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি চান ব্যাটিং অর্ডারে রিঙ্কু আরও একটু উপরে ব্যাটিং করুক। সৌরভ বলেন, “রিঙ্কু অনেকটা নিচে ব্যাটিং করতে নামছে। রাহানে তোমাকে একটা অনুরোধ করছি। রিঙ্কুকে একটু উপরে ব্যাট করতে নামাও। যাতে ও উইকেটে বেশি সময় কাটাতে পারে।”

    ক্যাপ্টেন রাহানে আবার শোনালেন, “কেকেআরের অধিনায়ক হওয়ার অনুভূতি দুর্দান্ত। আমাকে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আইপিএল জেতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বেশ কয়েক বছর খেলছি। টিমের পরিবেশ দুর্দান্ত। শাহরুখ খান সবার কাছে যেন বড় দাদার মতো। সবাইকে খুব সাপোর্ট করেন। ওঁর জন্য আমাদের সেরাটা দিতে হবে। সমর্থকদের জন্য সেরাটা দিতে হবে। ইডেনে খেলার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। এখানকার সমর্থকরা প্রচণ্ড প্যাশনেট। অদ্ভুত একটা আবেগ আছে ওদের মধ্যে। আইপিএল বলে বলছি না। এখানে যখন রনজি খেলতে এসেছি তখনও সেটা উপলব্ধি করেছি। বাংলা-মুম্বই খেলা ছিল। তখনও অনেকে খেলা দেখতে এসেছিল। মাঠ এসে নিজের রাজাকে সমর্থন করেছিল।”

    রিঙ্কুর আবার সেই শুরুর দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। আসলে তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে কেকেআর। তাঁর জীবনে কেকেআরের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বলছিলেন, “ওই পাঁচ ছক্কার পর থেকেই আমার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।” ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে বলছিলেন, “এসব টুর্নামেন্ট থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে আসে। কারণ এখানে ভালো খেললে সুযোগ পাওয়া যায় আইপিএলের মতো বড় প্রতিযোগিতায় যাওয়ার।” ইডেন গ্যালারির সমর্থন রিঙ্কু যে ভালোই উপভোগ করেন, তাও জানিয়ে দিলেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)