বৃষ্টি ও তুষারপাতের জেরে সিকিমের লাচেনে আটকে পড়েছিলেন কমপক্ষে দেড় হাজার পর্যটক। বুধবার সকাল থেকে তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন। একই সঙ্গে তারামচু কাছে যে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাও ইতিমধ্যেই সারিয়ে ফেলা হয়েছে বলে সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের লাচেন-ডংকিয়া-শিবমন্দির-জ়িরো পয়েন্ট-ইয়ুমথাং করিডর দিয়ে সরিয়ে আনা হচ্ছে। উদ্ধার কাজের সুবিধার জন্য পর্যটকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করা নিয়ে আসা হচ্ছে।
মঙ্গন জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার ভোরে ৩০টি গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে লাচেন থেকে রওনা দিয়েছে। সেনাবাহিনী সবুজ সংকেত দেওয়ার পরে ওই গাড়িগুলো ডংকিয়া লা রুট দিয়ে এগোবে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অন্যান্য গাড়িগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত লাচেনেই অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে তারামচুর দিকে আপাতত সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
উদ্ধার কাজের তদারকি করছেন মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন এবং পুলিশ সুপার এলবি ছেত্রী। তাঁদের সঙ্গে মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরাও রয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্থানীয় লাচেন জুমসা, হোটেল মালিক এবং যুব কমিটির সদস্যরাও পর্যটকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, সিকিমের গাড়ি চালক সংগঠনের লোকজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও হাত লাগিয়েছেন উদ্ধারকাজে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তারামচুর কাছে রাস্তা ধসে যাওয়ার ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লাচেন। যার জেরে উদ্বেগ বাড়ছিল পর্যটকদের। তবে সেনাবাহিনী ও বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের দ্রুত তৎপরতায় দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিকল্প পথ দিয়ে পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সিকিম প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কড়া নজরদারি চালানো হবে এলাকায়।