এই সময়, আসানসোল: কারও প্রার্থী পছন্দ নয়। কেউ আবার দলীয় নেতৃত্বের উপরে ক্ষুব্ধ। এমন অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলেরই একাংশের নেতা এ বারের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। এ ভাবে বিক্ষুব্ধরা গোঁজ হয়ে দাঁড়ানোয় দল যে সাময়িক বিপদে পড়বে, তাও মেনে নিয়েছেন নেতা–কর্মীদের একাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব।
শাসকদলের এমন দু’জন বিক্ষুব্ধ নেতা এ বার ভোটে প্রার্থী হয়েছেন কুলটি ও বারাবনিতে। কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন মহম্মদ আখতার। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রায় ২৪ বছরের। আসানসোল পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তিনি। বারাবনিতে আবার আইএসএফ প্রার্থী হয়েছেন পুঁচরা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিশ্বজিৎ বাউড়ি। একসময়ে এই পঞ্চায়েতের প্রধানও ছিলেন তিনি। নিজের নিজের এলাকায় দু’জনেরই প্রভাব রয়েছে, যে কারণে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
দলের বিপক্ষে গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত কেন, প্রশ্নের উত্তরে আখতার বললেন, ‘কুলটিতে তৃণমূলের প্রবীণ নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও আসানসোল থেকে একজনকে প্রার্থী করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মানছি না। দলকে উচিত শিক্ষা দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সেই সঙ্গে আখতারের অভিযোগ, ‘দলে অসময়ের বিধায়ক ছিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। ২০০৬ থেকে তিন বার বিধায়ক হয়েছেন। গত ভোটে তাঁর খুব কম ভোটে পরাজয় হয়েছে। এ বারও তাঁকেই প্রার্থী করা হবে বলে জানিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয়নি।’ শুধু উজ্জ্বল নন, কুলটির একাধিক প্রবীণ নেতার নাম উল্লেখ করে আখতার আরও বললেন, ‘ভোট–যুদ্ধ পেরোতে এই সব নেতার উপরেই ভরসা করতে হবে দলকে। তা হলে কেন তাঁদের কাউকে প্রার্থী না–করে বহিরাগত একজনকে উড়িয়ে আনা হলো!’ তবে দলের প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক মনে করছেন, সাময়িক ক্ষোভ হলেও পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। দলের রাজ্য কমিটির অন্যতম সম্পাদক ভি শিবদাসন বলেছেন, ‘মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছেন। তবে কেন এমন হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে মেটানো হবে।’
আখতারের মতো বিশ্বজিতেরও অভিযোগ, দলীয় নেতৃত্বের একাংশ একপেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বারাবনি আসনের এই আইএসএফ প্রার্থী বললেন, ‘নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণ করা হচ্ছে। তাই বিক্ষুব্ধ হয়ে ভোটে লড়ছি।’ অবশ্য এই আসনের তৃণমূল প্রার্থী ও আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায় আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছেন, ‘কোনও বিরোধিতা টিকবে না। তৃণমূলই জিতবে।’