• ফের ‘জ়ম্বি ড্রাগ’ আতঙ্ক! চণ্ডীগড়ের পর এ বার বেঙ্গালুরু, ভাইরাল ভিডিয়ো
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • চণ্ডীগড়ের পর এ বার বেঙ্গালুরু। প্রকাশ্য রাস্তায় ফের এক যুবককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চাঞ্চল্য সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোনও সাড়াশব্দ নেই, নড়াচড়া নেই— ঠিক যেন কোনও সিনেমার ‘জম্বি’। এই ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই নেটিজ়েনদের একাংশের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময় অনলাইন’। নেটিজ়েনদের দাবি, ভারতের একাধিক বড় শহরে থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী ‘জম্বি ড্রাগ’ বা জাইলাজ়িন (Xylazine)। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও সরকারি সিলমোহর দেওয়া হয়নি।

    ভিডিয়ো দেখে বোঝা গিয়েছে, ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর বাগলুর এলাকার নিট্টে কলেজের সামনের। সেখানে এক যুবককে রাস্তার মাঝে অদ্ভুত ভাবে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। আশেপাশের কোনও কিছুতেই যেন তাঁর কোনও নজর নেই। অনেকেই ভাইরাল এই ভিডিয়ো দেখে যুব সমাজ ও পুলিশকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। তবে ওই যুবক ঠিক কী কারণে এমনটা করছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই ড্রাগের নাম জাইলাজ়িন (Xylazine)। সাধারণত পশুদের শরীর অসাড় করতে চিকিৎসকেরা এটি ব্যবহার করেন। তবে মানুষের ব্যবহারের জন্য এই ড্রাগ কোনও ভাবেই অনুমোদিত নয়। এটি মানুষের শরীরে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যায় এবং হৃদস্পন্দন কমে গিয়ে মানুষ ঘোরের মধ্যে চলে যায়। নেশার ঘোরে মানুষ দীর্ঘক্ষণ এক ভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে বলেই একে ‘জম্বি ড্রাগ’ বলা হয়।

    সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই ড্রাগের প্রভাব কাটানোর জন্য সাধারণ অ্যান্টিড্রাগ ওষুধ খুব একটা কাজে আসে না। যদিও বেঙ্গালুরু বা চণ্ডীগড়ের ঘটনায় জাইলাজ়িনের উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবুও ইন্টারনেটে সাবধানের বন্যা বয়ে গিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে ওই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    কয়েক দিন আগেই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৩-বি এলাকাতেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভিডিয়োও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে এক ডেলিভারি বয়কে প্রায় দুই ঘণ্টা একই ভাবে এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। পরে পুলিশ এসে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে উদ্বেগ। অনেকেই সন্দেহ করছেন, পশুদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ মাদক এখন নেশার জন্য মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে না তো?

  • Link to this news (এই সময়)