২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মৌখিক সংঘাত তত বাড়ছে। সেই বিবাদ এ বার সরাসরি মোড় নিল তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে।
বুধবার সকালে তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সওয়াল করতে দিল্লিতে নির্বাচনের কমিশনের সদর দপ্তরে গিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে। তবে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, এমনকী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ‘গেট লস্ট’ বলে বিদায় জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ডেরেক।
এর পরেই কমিশনের তরফে একটি এক্স পোস্ট করা হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস দলের নাম নিয়ে সরাসরি লেখা হয়, ‘ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি নির্বাচন কমিশনের চরম হুঁশিয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচন— ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, তল্লাশিমুক্ত, এবং বুথ ও সোর্স জ্যামিং-মুক্ত—নিশ্চিত ভাবেই হবে।’
সেই পোস্টের পাল্টা তৃণমূলের তরফেও এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়, ‘আমরাও নির্বাচন কমিশনকে সোজা কথা সোজাভাবেই বলছি, এ বারের নির্বাচন হতে হবে— দিল্লির নিয়ন্ত্রণমুক্ত, রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কাউকে নিশানা করা থেকে মুক্ত এবং অবশ্যই দ্বিচারিতামুক্ত।’
রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার থেকেই একের পর এক ইস্যুতে কমিশনকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিজেপির নির্দেশেই কমিশন কাজ করছে বলে একাধিকবার অভিযোগ তুলে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
অন্য দিকে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল করেছে। যা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। কমিশনকে ‘নির্যাতন কমিশন’ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলতেও শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। তবে একটি রাজনৈতিক দলকে কমিশনের সরাসরি হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা কমিশনকে আক্রমণের এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনে বাড়তি উত্তাপ দিতে চলেছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলে।