• ভোটের আগে তৃণমূলকে ‘আল্টিমেটাম’ কমিশনের!
    আজকাল | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় আবারও বিতর্ক। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিতর্কে জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। মূলত নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তৃণমূলকে ‘আল্টিমেটাম’ দিয়ে এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক পারদ ঊর্ধ্বমুখী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে অতীতে ভোটকে ঘিরে হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে বহুবার। সেই কারণেই এবার ভোটের আগে আগাম সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছে কমিশন।

    নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে কমিশন জানায়, “পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ভোট যেন সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। কমিশনের বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাজ্যে ভোট হবে, ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত, ভীতি-মুক্ত, প্রলোভন-মুক্ত, ছাপ্পা-মুক্ত, রেড-মুক্ত, বুথ জ্যামিং-মুক্ত, সোর্স জ্যামিং-মুক্ত।”

    নির্বাচন কমিশনের এই সোজাসাপ্টা বার্তা ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই পোস্ট নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, “জাতীয় নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে ‘আল্টিমেটাম’ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?”  তাদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। এটি কমিশনের নিয়ম ও প্রথার বিরুদ্ধে।

    এই বিষয়ে আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বিজেপির হয়ে। একদিকে যেমন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে নিয়োগ করেছে, অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়োগ করেছে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের কমিটি। এই কমিটিতে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে স্বয়ং অমিত শাহ নিজে বসেছেন। এই দু’জনের নিয়োগ যার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। কাজেই খুব স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশনকেও বিজেপির সংস্থা কিংবা দলীয় সংস্থা বলতে কোনও সমস্যা নেই। খুব সহজেই বিষয়টা পরিষ্কার। আর কেন্দ্র সরকার সমস্ত রীতিনীতি ও নিয়ম কানুন ভেঙে কমিশনকে দলীয় সংস্থায় পরিণত করে ভারতের সংবিধানকে নষ্ট করছে, তা পরিষ্কার। সংবিধানকে নষ্ট করতেই কেন্দ্র সরকার উদ্ধত হয়েছে এবং তাই জন্যই এ ধরণের টুইট করেছে নির্বাচন কমিশন।” 




    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের কাজকর্ম ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটা কালো অধ্যায় হয়ে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ইতিহাস ক্ষমা করবে না। কোনও ভাবেই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো স্বপ্ন বিজেপির সফল হবে না এবং কমিশনের শত চেষ্টাতেও সফল হবে না। কারণ এর জন্য সাধারন মানুষকে প্রয়োজন। আর জনতা আছে তৃণমূলের সঙ্গে।” 

    জয়প্রকাশ আরও বলেন, “বিজেপি দেশের সংবিধানকে ভেঙে সেকুলার সরিয়ে হিন্দুরাষ্ট্র বানাতে চাইছে। সংবিধানকে পূর্ণমাত্রায় বদলাতে চাইছে। বিজেপি রাম রাজত্ব তৈরি করতে চাইছে। যিনি শাসক তিনিই বিচারক, এমনটাই স্থাপন করতে চাইছে কেন্দ্র। মানুষের কথা বলার কোনও জায়গা রাখতে চায় না বিজেপি। কোনও নিরপেক্ষ বা জুডিশিয়াল সিস্টেম থাকার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে। আর সেই সিস্টেমকে আনতে গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে হবে, মানুষের অধিকার নষ্ট করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই এরা নির্বাচন কমিশনকে দলীয় সংস্থায় পরিণত করেছে। এরা সেই স্বৈরতন্ত্রের দিকেই হাটছে। জ্ঞানেশ কুমার সেই স্বৈরতন্ত্রের একজন ধারক এবং বাহক।”
  • Link to this news (আজকাল)