• সহকর্মীর সাক্ষ্যেই তামিলনাড়ুর ৯ পুলিশকর্মীর ফাঁসি! আলোচনায় সেই মহিলা কনস্টেবল
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • পুলিশি হেফাজতে বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার এক আধিকারিক-সহ ন'জন পুলিশকর্মীকে ফাঁসির সাজা হয়েছে তামিলনাড়ুতে। মাদুরাই আদালতের এই নজিরবিহীন রায়ের সূত্রেই আলোচনায় উঠে এসেছেন হেড কনস্টেবল রেবতী, যাঁর সাক্ষ্যেই ওই মামলার বিচার হয়েছে।

    ২০২০ সালের জুনের ঘটনা। কোভিডবিধি অমান্য করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাদুরাইয়ের সাতানকুলমের ব্যবসায়ী পি জয়রাজ (৫৯) এবং তাঁর ছেলে জে বেন্নিক্স (৩১)-কে। পরে পুলিশি হেফাজতে তাঁদের পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার সময় থানায় কর্মরত ছিলেন মহিলা কনস্টেবল রেবতী। পরে তিনিই মামলার রাজসাক্ষী হন। ঘটনার তদন্তে থানায় গিয়েছিলেন বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীদাসন। সেই সময় তাঁর কাছে গোটা ঘটনার পুঙ্খানাপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছিলেন রেবতি।

    বাবা-ছেলে হত্যা মামলার তদন্ত নজরে রেখেছিলেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। ঘটনাচক্রে, তাঁর নামও রেবতী। তিনি বলেন, 'অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের তুলনায় রেবতী পদমর্যাদায় অনেক নীচে ছিলেন। তা সত্ত্বেও ভয় না পেয়ে উনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। যে দিন ম্যাজিস্ট্রেট থানায় এসেছিলেন, রেবতী একটাই কথা বলেছিলেন, আপনি কি আমার সন্তান এবং আমার চাকরির নিরাপত্তা দিতে পারেন?' এর পর সময় ধরে ধরে গোটা ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন রেবতী। জানিয়েছিলেন, কী ভাবে বাবা-ছেলেকে মারধর করা হয়েছিল, তাঁদের কোথায় কোথায় আঘাত লেগেছিল। এ-ও জানান, পুলিশি হেফাজতের পর বাবা-ছেলেকে জেল হেফাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার কিছু দিন পরেই দু'জনের মৃত্যু হয়।

    রেবতি তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন তিনি রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ থানায় গিয়েছিলেন। সেই প্রবল চিৎকার-চেঁচামেচি, আর্তনাদ শুনতে পান। তার পর ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন, দু'জনকে থানায় মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করছেন কয়েক জন অফিসার। হাতের কাছে তাঁরা যা পাচ্ছেন, তা দিয়েই মারধর করা হচ্ছিল। যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়। রেবতি বলেন, 'রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন দু'জন। পরে আবার তাঁদের দিয়েই সেই রক্ত পরিষ্কার করিয়েছেন পুলিশ অফিসারেরা।' পরে সিসিটিভি ফুটেজেও অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের চিহ্নিত করেছিলেন রেবতী।

    রেবতী জানিয়েছিলেন, শুরুর দিকে তাঁকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি রাজসাক্ষী না হন। শুধু তা-ই নয়, যে দিন তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিতে গিয়েছিলেন, সে দিন বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভও দেখান বহু পুলিশকর্মী। তাতে প্রাথমিক ভাবে মামলায় জড়াতে চাননি রেবতী। পরে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়েই তিনি জবানবন্দি দেন।

    যাঁদের সাজা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছে ইনস্পেক্টর এস শ্রীধর, সাব-ইনস্পেক্টর পি রঘু গণেশ এবং কে বালাকৃষ্ণন, হেড কনস্টেবল এস মুরুগান এবং এ সামাদুরাই ও কনস্টেবল এম মুধুরাজ, এস চেল্লাদুরাই, এক্স থমাস ফ্রান্সিস ও এস ভেইলুমুতো। দশম অভিযুক্ত বিশেষ সাব-ইনস্পেক্টর পলদুরাইয়ের মামলা চলাকালীন কোভিডে মৃত্যু হয়েছিল। বিচারক জি মুধুকুমারন এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর যুক্তিতে সায় দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং তা রাতভর চালানো হয়েছিল। অপরাধীদের এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য বলে জানিয়েছেন বিচারক। প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৯ সালে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনের থালামুথু নগর থানায় তিন অভিযুক্তকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এক ডিএসপি-সহ তামিলনাড়ু পুলিশের ন’জনের যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)