নিতাই রক্ষিত
ভোটের বাজারে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। চাহিদা রয়েছে কঞ্চিরও। ঝান্ডার ডান্ডা জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। সুযোগ বুঝে বাঁশের চড়া দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরাও। গ্রাম থেকে শহর, গলি থেকে রাজপথ, চোখ মেললেই ভোটের উন্মাদনা স্পষ্ট চোখে পড়বে। পত পত করে উড়ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা। রাস্তার পাশে গাছের ডালে, দোকানের খুঁটিতে, মাটিতে পোঁতা ঝান্ডা। এ ছাড়াও রাজনৈতিক দলের মিছিল, সভা, বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারের জন্যও প্রচুর ঝান্ডার দরকার হচ্ছে।
সাধারণত গ্রামাঞ্চলে দলের কর্মীরা নিজের বাড়ির বাগানের বাঁশ কেটে কিংবা গ্রামের কারও কাছ থেকে বাঁশ কিনে, কেটে ঝান্ডা তৈরি করছেন। শহরের দিকে ছবিটা একটু অন্য রকম। সেখানে বাঁশ বিক্রেতারা ঝান্ডার জন্য বাঁশ কেটে তৈরি করে দিচ্ছেন পয়সার বিনিময়ে।
পতাকা লাগানোর জন্য সাধারণত তিন চার ফুটের বাঁশের টুকরো লাগে। বাঁশের টুকরোয় যাতে হাত না কেটে যায়, তার জন্য বাঁশের টুকরোটি একটু মসৃণ করে নিতে হয়। পয়সার বিনিময়ে রেডিমেড বাঁশের টুকরো পাওয়া যায় বিভিন্ন বাঁশের দোকানে। রেডি করা এক একটি বাঁশের টুকরোর দাম আড়াই থেকে তিন টাকা। কতগুলি টুকরো লাগবে, তা আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। সেই বাঁশের টুকরোয় দলীয় পতাকা পেরেক দিয়ে গেঁথে তৈরি হয় একটি ঝান্ডা। ভোটের মরশুমে প্রচুর ঝান্ডার জোগান দিতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের।
মেদিনীপুর শহরের তৃণমূল কর্মী অর্ঘ্য সাহু বলেন, ‘ঝড়ের জন্য প্রায় রোজই পতাকা উড়ে চলে যাচ্ছে, খুলে পড়ে যাচ্ছে। সেখানে নতুন করে পতাকা লাগাতে হচ্ছে। তা ছাড়া নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, বাড়ি বাড়ি প্রচারের জন্য প্রচুর ঝান্ডার দরকার হচ্ছে। পার্টি অফিসে বসেই কর্মীরা ঘণ্টার পরে ঘণ্টা ধরে ঝান্ডা তৈরি করছেন।’
মেদিনীপুর শহরের বিজেপি কর্মী সুশান্ত ঘোষের কথায়, ‘রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির দলীয় পতাকা খুলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নতুন করে পতাকা লাগাতে হচ্ছে। দেখা গিয়েছে এক একটি এলাকায় দু’-তিনবার করেও পতাকা লাগাতে হয়েছে। আর পতাকার জন্য বাঁশের টুকরো জোগাড় করতেই ঝামেলা হচ্ছে।’
মেদিনীপুর শহরের বাঁশ গলিতে বেশ কয়েকজন বিক্রেতা বাঁশ বিক্রি করছেন। এদের মধ্যে কেয়ামুদ্দিন শেখ বলেন, ‘তিন ফুট সাইজের বাঁশের কঞ্চি ১০০ পিসের দাম ৩০০ টাকা। ভোটের সময়ে এই কাঠিগুলির চাহিদা থাকে। তাই তৈরি করে রাখি। ভালোই বিক্রি হয়। এই ভোটের মরশুমেই প্রায় ৫-৬ হাজার বাঁশের কাঠি বিক্রি করেছি।’
আর এক বাঁশ ব্যবসায়ী আখতার পাঠানের কথায়, ‘ঝান্ডার জন্য বাঁশের চেয়ে বাঁশকাঠিই বেশি বিক্রি হয়। একটা গোটা বাঁশ ২৫০-৩০০ টাকা। গোটা বাঁশ কিনে নিয়ে অনেকে কাঠি তৈরি করে নিচ্ছেন। একটা বাঁশ দিয়ে কমপক্ষে ১৫০-র মতো কঞ্চি তৈরি করা যায়।’ ভোটের বাজারে বাঁশ-কঞ্চির সমান দর। তা জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।