বাঁশবেড়িয়া, কৃষ্ণপুর, বাসুদেবপুর, নিত্যানন্দপুর, শিবপুর, সাম্বচোরা ও বলদঘাটি—এই সাতটি গ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছিল সপ্তগ্রাম। ২০১১ সালের পর থেকে টানা তিনবার এই কেন্দ্র জিতে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। এ বার ফুল বদলের পালা? ১৯৭৭ সালের পর থেকে সপ্তগ্রামে একছত্র প্রভাব ছিল বামেদের, তারা কি এ বার ঘুরে দাঁড়াবে? খুঁজে দেখল এই সময় অনলাইন।
এই কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে বাঁশবেড়িয়া পুরসভা। রয়েছে পোলবা, দাদপুর, মগরা ডেভেলপমেন্ট ব্লক। কৃষি ও ছোটোখাটো ব্যবসা নির্ভর এই এলাকার বাসিন্দারা। ১৯৯৬ সালে বদল হয়েছিল এই বিধানসভা কেন্দ্রে। জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী রবীন মুখোপাধ্যায়। এর বাইরে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই আসন ছিল বামেদের দখলে।
প্রথম সারির প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই প্রার্থী পরিবর্তন করেছে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে। তিন বারের জয়ী প্রার্থী তপন দাশগুপ্তকে এ বার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার ও তপন দাশগুপ্তের ‘অম্লমধুর’ সম্পর্কের কথা সকলেরই জানা। দু’জনকে নির্বাচনের লড়াইয়ে মাঠে নামায়নি তৃণমূল।
উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসুকে এ বার সপ্তগ্রামের খেলার জন্য পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থীর মাঠ অচেনা, তবে সংগঠনের জোরেই এ বারও জেতার ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্য দিকে, গতবারের বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত বিশ্বাস নিজের দলবল নিয়ে কয়েকমাস আগেই তৃণমূলে যোগদান করেছেন। যা বাড়তি সুবিধা দেবে বলে দাবি তৃণমূলের নেতাদের।
উল্টো দিকে, বিজেপির প্রার্থী স্বরাজ ঘোষের হাতেখড়ি বাম রাজনীতিতে। এসএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেই পর্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৭ সালে রাজনীতিতে ফিরে বিজেপিতে যোগদান। ২০২১ সালে তপন দাশগুপ্তের হাত ধরে তৃণমূলের আসেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে ফের প্রত্যাবর্তন হয় স্বরাজের। এ বার তিনি বিজেপির টিকিট পেয়েছেন।
পুরোনো সংগঠনের ভরসা রাখছে সিপিএম এ বার সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন অনির্বাণ সরকার।
তৃণমূল প্রার্থী বিদেশ বসু নতুন মাঠেও আত্মবিশ্বাসী। ফুটবলে প্রতিপক্ষকে যে ভাবে প্রতিহত করেছেন, ভোটের ময়দানেও বিজেপির জালে বল জড়াবার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে দিদি এনেছেন। আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। রাজনীতির লোক নই আমি। ফুটবল খেলেও অনেক কিছু শিখেছি, অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখানে থেকে মানুষের ভালবাসা পেতে চাই। লড়াই কোনও কঠিন নয়। সব কিছু ভালোবাসাতে হেরে যায়।’
কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতি ইস্যুকে সামনে রেখে এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ। কোভিডের সময়ে এলাকার দুঃস্থ মানুষদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন খাবার। দলমত নির্বিশেষে কোনও মানুষ অসুস্থ হলে ও তার বাড়িতেও ছুটে গিয়েছেন। স্বরাজ বলেন, ‘মানুষ আমার হয়ে রাস্তায় নেমে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট চাইছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই মতো কাজ করেনি। এলাকার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বানাবে বলেছিল, কিন্তু তৈরি করেনি। বলেছিল কৃষকদের পাশে থাকব। তাঁদের পাশেও থাকেনি। কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষক মান্ডিগুলোও বন্ধ।’
অন্য দিকে, সিপিএমের প্রার্থী অনির্বাণ সরকার বলেন, ‘বামপন্থীরা জানেন বিজেপি তাদের শত্রু। তাই তারা দক্ষিণপন্থী শক্তিকে কোনও না কোনওভাবে জিইয়ে রাখতে চাইছে। অর্থাৎ ভেতরে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির সেটিং রয়েছে। ভারতবর্ষের মসনদে বসে রয়েছে বিজেপি। তারা বামপন্থীদের শত্রু বলে মনে করে বলেই আমরা বেশি প্রাসঙ্গিক। নিরাশা বা হতাশার কোনও কিছুই আমাদের অভিধানে নেই। মানুষ বলছে কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্ন জিতবে।’
রিপোর্টিং: সুজয় মুখোপাধ্যায়