রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন দু’দফায় হচ্ছে। প্রথম দফা উত্তরবঙ্গে। এখানেই রয়েছে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, ডুয়ার্স ও চা বলয়। সেখানেই বুধবার প্রচারে এসে গোটা রাজ্যে বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর ডাক দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। এ দিন আলিপুরদুয়ারের সোনাপুরে জনসভা করেন তিনি। গোটা বক্তব্য জুড়ে ছিল একাধিক আশ্বাস। চা বাগানের শ্রমিকদের হাল ফেরানো, রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করা থেকে চাকরি দুর্নীতিতে দোষীদের জেলে ঢোকানো, সবই ঘুরেফিরে এসেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির ভাষণে।
চাকরি দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্য সরকারের একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেই মামলায় তদন্ত করেছে সিবিআই-ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। পরে ধৃতদের প্রায় সকলেই জামিন পেয়েছেন। এ দিন নীতিন নবীন আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে যুক্তদের শাস্তি দেওয়া হবে। কারা জড়িত সেটারও পর্দাফাঁস করা হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তাঁর প্রচারে উঠে এসেছে চা বাগানের অর্থনীতিও। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির অভিযোগ, বাংলার চা বাগানের অর্থনীতি নষ্ট করেছে তৃণমূল সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অসমের মতো এই রাজ্যেও বাগান শ্রমিকদের অবস্থা ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বাগানের পরিকাঠামো বৃদ্ধি, দৈনিক বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসও দিয়েছেন নীতিন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য যে বদ্ধপরিকর, তা বোঝাতে গিয়ে বাংলায় প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দেওয়া, একাধিক স্টেশনকে অমৃতভারত প্রকল্পের অধীনে আনার উদাহরণ দেন তিনি।
প্রথম থেকেই SIR-কে বিজেপি প্রচারের হাতিয়ার করেছে। সেই সুর টেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর তোপ, ‘SIR-এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা হয়েছে। তাঁদের জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু রাজ্যে মা-বোনদের উপর অত্যাচারের সময়ে তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি।’
তাঁর দাবি, বিহারের মতো এই রাজ্যেও জঙ্গলরাজ ছুড়ে ফেলা হবে। বিহারে বিজেপি জেতার পরেই নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এর পরে বাংলায় জয় পাওয়া তাঁদের পাখির চোখ। সেই সুর এ দিনও শোনা যায় নীতিন নবীনের গলায়। তাঁর দাবি, ‘৪ মে পশ্চিমবঙ্গে হোলি হবে। ভাগোয়া হোলি হবে। এখন ন্যায়ের লড়াই হবে। ২দিনই ভোট পড়বে বিজেপির ঝুলিতে। তাহলেই এই সরকার বিদায় নেবে।’