মাত্র ২ সপ্তাহ। আপাতত এই কয়েকদিনের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। বুধবার এই বার্তা আসার পরেই স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে গোটা বিশ্বের এনার্জি মার্কেটে। যার প্রভাব দেখা গিয়েছে শেয়ার বাজারেও।
বিশ্বে যে কোনও বড় যুদ্ধ হলেই অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু জাতীয় অর্থনীতিই নয়, ঢুকে পড়েছিল আম-আদমির হেঁসেলেও। ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি ও তেলের সিংহভাগ আসে পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশ থেকে। সেই কারণে হরমুজ় প্রণালী ভারতের তেল-গ্যাস আমদানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ফলে এই জায়গা দিয়ে তেলবাহী ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াত বন্ধ হয়েছিল। পরে কূটনৈতিক দৌত্যে ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ছাড়পত্র পেলেও। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের উৎপাদন ধাক্কা খাওয়ায়, ভারতে তৈরি হয়েছিল জ্বালানি সঙ্কট। রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে, তারপরেও চাহিদা অনুযায়ী জোগান ছিল না। যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হতেই এখন দেশে একটাই প্রশ্ন? এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কী কমবে?
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৬ শতাংশ কমেছে। নেমে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি ৯৩ ডলারের নীচে। কিন্তু তার প্রভাব এখনই পেট্রোল পাম্পে দেখা যাবে না। দেশের অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের দামে ১৫ দিনের রোলিং অ্যাভারেজের উপর নির্ভর করে দেশের খুচরো বাজারের দাম নির্ধারণ করে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই যুদ্ধ থেমে যায় এবং হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে কিছুদিনের মধ্যে বেশ খানিকটা নামবে তেলের দাম। সেটা আমজনতার পকেট পর্যন্ত পৌঁছবে কি না সেটা অবশ্য অনেকগুলি ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করছে।
যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এলপিজির দামের যোগাযোগ আরও নিবিড়। যুদ্ধের জন্যই এলপিজি সঙ্কট হয়েছিল। ১ এপ্রিল একলাভে অনেকটা বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। পরে বাড়ির জন্য ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বেড়েছিল। এখন যুদ্ধবিরতি হওয়ায় এলপিজি আমদানি আগের মতো স্বাভাবিক হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ইরান হরমুজ় প্রণালী পেরোতে প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে ‘টোল ফি’ নেবে বলে জানিয়েছে। সেটা সত্যিই নেওয়া হলে আমদানি স্বাভাবিক হলেও খরচ বাড়বে।
১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র দাম কমার আশাই জাগাচ্ছে না। ভারতের জন্যও ভালো সুযোগ, নিজের স্ট্র্যাটিজিক রিজ়ার্ভের দিকে নজর দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি, তেল ও গ্যাস আমদানির খরচ কমলে তা দেশের পকেটের জন্যও ভালো হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।