রক্তাক্ত উত্তরবঙ্গ! গত এক দশকের ‘বুলেট’ স্মৃতি কি মুছবে এবার?
আজ তক | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Bidhansabha Election 2026 Northbengal: উত্তরের শান্ত হিমেল হাওয়ায় গত এক দশকে বারবার বারুদের গন্ধ মিশেছে। পাহাড় থেকে সমতল, ব্যালট বাক্স রক্ষা করতে গিয়ে কিংবা রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে বারবার প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মানুষের। ২০১৪ থেকে ২০২৪, এই ১০ বছরের নির্বাচনী মানচিত্রে উত্তরবঙ্গের আট জেলায় বারবার ফিরে এসেছে রক্তক্ষয়ী ছবি। আসন্ন ভোটের আগে পুরনো সেই বুলেটের ক্ষত আর স্বজনহারাদের কান্না কি মুছবে? এটাই এখন উত্তরের বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে ২০২১-এর ১০ এপ্রিল। বিধানসভা ভোটের চতুর্থ দফায় শীতলকুচির আমতলি হাইস্কুলের ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ৪ গ্রামবাসী। একই দিনে প্রাণ যায় এক ভোটারেরও। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটেও রক্ত ঝরেছে দিনহাটায়। উদয়ন গুহ বনাম নিশীথ প্রামাণিকের দ্বৈরথে বারেবারে উত্তপ্ত হয়েছে সীমান্ত লাগোয়া এই জেলা। পিছিয়ে নেই দুই দিনাজপুরও। ইসলামপুর ও চোপড়ায় গত পঞ্চায়েত ভোটেও মনোনয়ন ঘিরে গুলিবৃষ্টিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮-তে রায়গঞ্জে ব্যালট লুট রুখতে গিয়ে শিক্ষক খুনের ঘটনা আজও ভোলেনি মানুষ।
মালদার কালিয়াচক ও মোথাবাড়ি মানেই বোমা-গুলির লড়াই। ২০১৬-তে থানা পোড়ানো থেকে ২০২৩-এ রতুয়ায় গণনাকেন্দ্রে রণক্ষেত্র, মালদহের ভোটের ইতিহাসে রক্তের দাগ বেশ গভীর। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের চা-বলয়েও রাজনৈতিক অধিকারের লড়াই প্রায়ই সংঘর্ষে রূপ নেয়। কালচিনি বা ফালাকাটায় গত ভোটেও বোমাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পাহাড়ের সমীকরণ বদলে গেলেও ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ফাঁসিদেওয়া ও খড়িবাড়িতে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়েছিল সমতল।
কী বলছে এলাকা?
নির্বাচন এগিয়ে আসতেই উত্তরবঙ্গের অলিতে-গলিতে এখন একটাই আলোচনা,ভোট কি শান্তিতে হবে? সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অশান্তির আশঙ্কা প্রবল। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং চা-বাগানগুলিতে সাধারণ মানুষ এখনও ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অনেক জায়গাতেই ভোটারদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও বুথের বাইরে দাপিয়ে বেড়াতে পারে রাজনৈতিক দুষ্কৃতীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু বুথের ভেতরে নয়, যাতায়াতের রাস্তাতেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক প্রশাসন।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা
পুরনো এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে এবার নির্বাচন কমিশন কোমর বেঁধে নেমেছে। কোচবিহার ও মালদহের মতো স্পর্শকাতর জেলায় অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ শুরু করেছে। দিনহাটা, চোপড়া, কালিয়াচক ও ইসলামপুরে কোনও রকম নিরাপত্তা নিয়ে কোনও গাফিলতিতে নারাজ কমিশন। শুধু নজরদারি নয়, এবার ড্রোন ও সিসিটিভি-র মাধ্যমে প্রতিটি বুথে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য পরিষ্কার, শুধু বুথের ভেতর নয়, এবার ভোটারদের লাইন থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যাতে মানুষ নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত এই কড়া নিরাপত্তায় উত্তরের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস বদলায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তবে তারপরও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। কারণ "ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।" তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এখনও হিংসার ঘটনা অনেকটাই কম।