কলকাতার আশপাশের অনেক আসনে 'চুপচাপ' বিজেপি, এর পিছনে কোন অঙ্ক?
আজ তক | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। ২০২৬ সালের ভোটের আগে তারাই তৃণমূলকে সরিয়ে নবান্নের গদি দখলের দাবি করছে। সেই মতো প্রচার চলছে জোর কদমে। রাজ্যে নিয়মিত আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়া শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্যের মতো রাজ্যের তাবড় নেতারাও এবেলা-ওবেলা প্রচার করছেন।
যদিও এমন ভোটমুখী আবহে কিছুটা অন্য ছবি রয়েছে কলকাতার একাধিক আসনে। এই সব এলাকায় বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণভাবে অ্যাক্টিভ। মাঝে মধ্যেই হচ্ছে পোস্ট। কিন্তু তাদের দেওয়াল লিখনে, পোস্টারে, ব্যানারে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং তাদের থেকে অনেক বেশি উপস্থিতি চোখে পড়ছে সিপিআইএম-এর।
আর এমন পরিস্থিতিতেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, হঠাৎ ভোটের আগে এমন নীরবতা কেন বিজেপির অন্দরে? এটা কি তাদের নতুন স্ট্র্যাটেজি? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও অঙ্ক? এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এর পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, শহুরে ভোটারদের মধ্যে দেওয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানারের প্রভাব খুব একটা বেশি নয়। বরং তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি অ্যাক্টিভ। তাই বিজেপির পক্ষ থেকে হয়তো সোশ্যাল মিডিয়াকেই টার্গেট করা হয়েছে। যার ফলে সমাজ মাধ্যমেই নিয়মিত চলছে প্রচার।'
পাশাপাশি এই ইস্যুর নেপথ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কারণ জানিয়েছেন উদয়ন। তাঁর মতে, শহরের অনেক আসনেই হয়তো কর্মীদের মধ্যে প্রার্থীকে নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই। তাই তাঁরা মাঠে নেমে প্রচার করতে চাইছে না। এছাড়া কিছু জায়গায় হয়তো বিজেপির সংগঠন তেমন একটা স্ট্রং নয়। তাই তাঁরা সেখানে রাস্তায় এসে সেভাবে প্রচার করছে না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বলে মনে করছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
যদিও এই ভোটে গেরুয়া বাহিনীর কলকাতার আশপাশে কিছু সিটে গ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ি। তাঁর মতে, বিজেপি কীভাবে ভোটে লড়বে, লড়াইয়ের রণনীতি কী হবে, সেটা কেন্দ্রীয়ভাবে ঠিক হয়। সেই মতোই চলছে দল। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এবার যদি সাধারণ মানুষকে বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে তাঁরা বিজেপিকেই ভোট দেবেন। সেই মতো সরকারও গঠন করবে বিজেপি।