• বইয়ের পাতা থেকে ময়দানে পড়ুয়ারা, শহরে ‘ক্লাইমেট অ্যাম্বাসাডর’ কর্মসূচি
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • বইয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে স্কুলপড়ুয়ারা। তাদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে এবং হাতেকলমে কাজ শেখাতে সম্প্রতি (৩০ মার্চ) শহরে আয়োজিত হল ‘নোয়িং ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালা। স্কটিশ চার্চ কলেজ, টেরি স্কুল অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (TERI SAS) এবং বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সোসাইটি ফর হেরিটেজ অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল রিসার্চেস (SHER বা শের)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে শহরের ২৮টি স্কুলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিটি স্কুল থেকে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী ছিলেন অনুষ্ঠানে। উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষা ড. মধুমঞ্জরী মণ্ডল, টেরি স্যাস (TERI SAS)-এর অধ্যাপক ড. রঞ্জনা রায় চৌধুরী এবং শের (SHER)-এর পক্ষে জয়দীপ কুণ্ডু।

    কর্মশালার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ক্লাইমেট অ্যাম্বাসাডর’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা। উদ্যোক্তারা জানান, শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থেকে, পড়ুয়ারা যাতে বাস্তবে কাজ করতে পারে এবং নিজেদের স্কুলে পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে পড়ুয়াদের নেওয়া সেরা উদ্যোগগুলিকে পুরস্কৃতও করা হবে।

    দিনভর চলা এই কর্মশালায় জলবায়ু সংকটের নানা দিক তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস তথা বাংলার প্রাক্তন প্রধান বনকর্তা কর্তা দেবল রায় গ্রিনহাউস গ্যাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের আর্থ-সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে, আধুনিক নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট উষ্ণায়নের চ্যালেঞ্জ এবং 'ক্লাইমেট স্মার্ট সিটি' গড়ে তোলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক রঞ্জনা রায় চৌধুরী। আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতির সঙ্গে সুন্দরবনের স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতি ও তার বাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত বসু।

    পরিবেশ গবেষণায় বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকটিও এদিন পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যাপক ড. অমিতাভ রায় RT-PCR, HPLC-র মতো আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে কীভাবে দূষণ বিশ্লেষণ করা হয়, তা হাতেকলমে দেখান। পাশাপাশি, টেরি স্যাস-এর গবেষক রাতুল ঘোষ জলবায়ু বিজ্ঞান ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগান্তকারী ব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক স্তরে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হতেও উদ্বুদ্ধ করেন।

    কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অমিতা প্রসাদ। শিক্ষার্থীদের উদ্দীপ্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরাই জলবায়ুর চ্যাম্পিয়ন’। তাঁর এই প্রেরণামূলক বার্তার পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে পরিবেশ রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এই সফল কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।

  • Link to this news (এই সময়)