• সব মামলা থেকেই জামিন, ১৩ বছর পরে মুক্ত সুদীপ্ত, কী কী শর্ত দিল কোর্ট?
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: প্রায় ১৩ বছর পরে জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি। ২০১৩–তে ২৫০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে সুদীপ্ত এবং তাঁর সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর কমিশনারেট। পরে ওই মামলার দায়িত্ব যায় সিবিআই এবং ইডির হাতে। কলকাতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে সারদার কর্ণধারের বিরুদ্ধে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার সূত্রে জেলবন্দি ছিলেন সুদীপ্ত। বুধবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ অভিযুক্তের জামিনের নির্দেশ দিতে গিয়ে জানায়, প্রশাসনের ব্যর্থতায় এতদিনেও বিচার শুরু হয়নি। একইসঙ্গে আদালত জামিনের ক্ষেত্রে তাঁর ভগ্ন স্বাস্থ্যের যুক্তিকেও মান্যতা দিয়েছে।

    দেড় দশক আগে রাজ্যে পালা বদলের পরে ২০১৩–র এপ্রিল মাসে সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসে। বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশনারেট তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, কলকাতা থেকে নিজের সংস্থার এক মহিলা আধিকারিককে নিয়ে তিনি সড়কপথে গা ঢাকা দিয়েছেন। সে বছরের ২৭ এপ্রিল কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে সিবিআই সারদা মামলার তদন্ত শুরু করলে ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে শাসকদলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়ে পড়ে।

    এরপর ২০১৬ এবং ২০২১–এর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে সারদা ইস্যু সামনে এলেও তাতে ফলাফলে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। এ বার আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সুদীপ্তর জামিন পাওয়ার ঘটনা নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এনেছে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা বারাসাত থানার দুটি মামলা থেকে সারদার কর্ণধারকে জামিন দেয়। আগেই সিবিআইয়ের হাতে থাকা চারটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। ফলে সুদীপ্তর জেল থেকে বেরোনোর আর কোনও আইনি বাধা রইল না বলে দাবি আইনজীবীদের। যদিও জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। সুদীপ্তর আইনজীবী সাবির আহমেদ ও প্রসূন মুখোপাধ্যায় শুনানিতে যুক্তি দেন, ‘সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ জেলেই কাটিয়ে ফেলেছেন সারদা কর্তা, অথচ মামলার বিচারই শুরু হয়নি। বছরের পর বছর অন্যায়ভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।’ রায় দিতে গিয়ে এ দিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ২১ ধারা অনুযায়ী দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারের দাবি অগ্রাহ্য করা যায় না। যে সব ধারায় সুদীপ্ত গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাতে সাজা হলে যতদিন জেলে থাকার কথা, তার দু’গুণ বেশি সময় ধরে তিনি জেলে রয়েছেন। যে ভাবে তাঁকে জেলে রাখা হয়েছে, তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া এই মামলার নথি দীর্ঘদিন ধরে উধাও থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। একইসঙ্গে আদালতের বক্তব্য, সারদার বহু আমানতকারী এতদিনেও ক্ষতিপূরণ পাননি। তাই প্রধান অভিযুক্ত বাইরে এলে সেই টাকা ফেরানোর কাজে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।

    জামিন পেলেও একাধিক শর্ত মানতে হবে সুদীপ্তকে। তার মধ্যে রয়েছে, নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখা, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে না যাওয়া এবং বারাসত থানার ওসিকে নিজের ঠিকানা জানিয়ে রাখা। পাশাপাশি নতুন করে কোনও জালিয়াতি হতে পারে, এমন ধরনের প্রকল্পে যুক্ত না হওয়া। দ্রুত বিচার শুরু করতেও এ দিন নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

  • Link to this news (এই সময়)