• কেন ফ্রিজ় ভোটার লিস্ট? ফের কোর্টে যাবেন মমতা
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করার আগেই কী ভাবে ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়— এই প্রশ্ন তুলে ফের আদালতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, অ্যাজুডিকেশনে যে ভোটারের নাম বাদ যাবে, তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও এগুলি এখনও কাজ শুরু করেনি। এই তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৫ শতাংশের (২৭ লক্ষের বেশি) নাম বাদ গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ২৭ লক্ষ ভোটারেরই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কমিশন প্রথম দফায় যে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, তার ভোটার তালিকা ফ্রিজ় করে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল যাঁদের বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাঁদের এ বার ভোটাধিকার থাকবে কি না। ভোটদানের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়ে যাওয়ার অর্থ ট্রাইব্যুনাল যাঁদের বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাঁরাও ২০২৬–এর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। এই বেনজির পরিস্থিতিতে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির শ্রীরামপুরের সভায় বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিল, ট্রাইব্যুনাল হবে। অ্যাজুডিকেশনে যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে অ্যাপ্লাই করার সুযোগ পাবেন। তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন। এখন ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন কী করে প্রথম দফার নির্বাচনের ভোটার লিস্ট ফ্রিজ় হয়ে গেল, এটা আমার মাথায় ঢুকছে না।’ ‘অ্যাজুডিকেশনে’র অন্তর্গত যে ৪৫ শতাংশের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাঁরা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁরা কী করবেন? তৃণমূলনেত্রীর কথায়, ‘মৃত্যুর পরে ডাক্তার এলে নিরাময় কী ভাবে হবে? এটা নিয়ে একটা বিতর্ক হোক।’

    শ্রীরামপুরে মমতার এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের আইনজীবী–সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা শ্রীরামপুরের সাংসদকে বলেন, এখন ঠিক কী পরিস্থিতি রয়েছে, এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য কে দায়ী— তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে বোঝাতে। মমতার নির্দেশে কল্যাণ বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো এখনও নির্বাচন কমিশন তৈরি করেনি। এটা ইচ্ছা করে করেনি। এর জন্য ট্রাইব্যুনাল এখনও কাজ করতে পারছে না। বিধি হলো— মনোনয়ন পেশের শেষ দিনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়ে যায়।’ কিন্তু এই ‘টেকনিক্যাল’ কারণে ভোটাধিকার কি খর্ব করা যায়— এই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার কথায়, ‘ট্রাইব্যুনালে যে নামের বিচার হলো না, তার জন্য কে দোষী? টেকনিক্যাল কারণে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।’

    গেরুয়া শিবিরের ইশারায় নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ। শ্রীরামপুরের সভায় মমতা বলেন, ‘বিজেপি ফোন করে জজেদের... আর কিছু বললাম না। কে রোজ ফোন করে? ওই মোটাভাই। ওই মোটাভাই নাম কেটেছে। ওই মোটাভাই সন্ত্রাস করছে। নিজের ঘরে মেয়ে, বউ নেই? জানে না, বাপের বাড়ি গেলে মেয়েদের ঠিকানা বদল হয়? বিয়ে হলে পদবী বদল হয়? এরা স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, ভোট–কাটারি। মাঝে মাঝে মনে হয়, আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করি।’ গেরুয়া শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলই পরিকল্পিত ভাবে মানুষের নাম কাটার ব্যবস্থা করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য পাল্টা বলেন, ‘বিজেপি প্রভাবিত এলাকার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা তৃণমূল করেছে। তৃণমূলই পরিকল্পিত ভাবে মতুয়া, আদিবাসীদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে কিছুটা সফল হয়েছে। এই তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের মতো ভোটারদের পক্ষে থাকা সরকার। এদের নিয়েই তৃণমূলের কাজ।’

    তৃণমূলনেত্রী বুধবার সকালে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করে বেরিয়ে এসেও যে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাজুডিকেশনে’ বাদ পড়েছে, তাঁদের হয়ে সওয়াল করেছেন। কালীঘাটের বাড়ি থেকে মমতা এ দিন মিছিল করে আলিপুরে গিয়ে মনোনয়ন দাখিল করেন। ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ তৃণমূল নেতা এবং ভবানীপুরের দলীয় কাউন্সিলাররা এই মিছিলে ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত করা এখনও বাকি আছে। আমি মনে করি, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, অ্যাজুডিকেশনে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা প্রকৃত ভোটার।’ খসড়া ভোটার তালিকায় যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, এটাও পর্যালোচনা করা উচিত বলে মনে করছেন তৃণমূলনেত্রী। এই ৫৮ লক্ষের মধ্যে একাংশ মৃত ভোটার অথবা ডুপ্লিকেট নাম থাকতে পারে কিন্তু সবাই অবৈধ ভোটার বলে মানতে নারাজ মমতা।

    আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ে সেখানে উপস্থিত আধিকারিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে তৃণমূলনেত্রী নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফেসবুকে শুভেন্দু একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। ‘এই সময়’ ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। এই ভিডিয়োতে শোনা যাচ্ছে, মমতা বলেছেন, ‘রিটার্নিং অফিসার কে? আপনি নন্দীগ্রাম থেকে এসেছেন?’ তৃণমূলনেত্রীর এই প্রশ্নে ওই আধিকারিক বলেন, ‘আমি আসানসোল থেকে এসেছি। ভোট প্রক্রিয়ার আগেই আমি নন্দীগ্রাম থেকে ট্রান্সফার হয়েছি। আমি ব্যারাকপুরে কাজ করেছি, সেখান থেকে আসানসোলে যাই।’

  • Link to this news (এই সময়)