• নারীশক্তির ক্ষমতায়নে আসুন এক হই: নরেন্দ্র মোদী
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নরেন্দ্র মোদী

    মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল সংসদে আলোচনার পরে সেটিকে পাশ করা হবে। এতে ভারতে কোটি কোটি মহিলার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে চলেছে। মহিলাদের উন্নতি হলেই সমাজের উন্নতি হবে। তাই এটি নিছক কর্মসূচি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিলটি পাশ হলেই দেশের সভ্যতা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে। আগামী ২০২৯–এর লোকসভা ও রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর হবে।

    ভারতে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মহিলা। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে শিল্পোদ্যোগ, খেলাধুলো থেকে সশস্ত্র বাহিনী, কিংবা সঙ্গীত ও শিল্পকলা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহিলারা সামনের সারিতে রয়েছেন। তাই শিক্ষায় সুযোগ বাড়িয়ে, স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন করে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলি আরও বেশি করে তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু, বিশ্ব রাজনীতি অথবা বিভিন্ন সংসদীয় প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের উপস্থিতি যথাযথ নয়। প্রশাসনিক কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা-চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারেন না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অথচ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের যথাযথ ভূমিকা নিশ্চিত করতে আগের সরকারগুলি একাধিক কমিটি তৈরি করে বিলের খসড়া উপস্থাপিত করলেও কোনওটাই বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাশ করা হয়। আমি এই ঘটনাটিকে আমার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করি।

    মহিলাদের সংরক্ষণের এই সুযোগটি সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংবিধান প্রণেতারা এমন এক সমাজের কথা ভেবেছিলেন, যেখানে সাম্য নিশ্চিত হয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করা, তাঁদের এই স্বপ্ন পূরণের দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগকে আর বিলম্বিত করা উচিত নয়। মহিলাদের অংশগ্রহণকে কার্যকর করতে যদি দেরি করলে আমাদের গণতন্ত্র সমান অধিকারের চিন্তাকে পিছিয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টিতে আলোচনার মাধ্যমে সকলেই একমত হয়েছেন। তাই এটিকে কার্যকর করতে এখন পিছু হটার অর্থ হলো, আমরা বৈষম্যকে দূর করছি না। মনে রাখতে হবে, আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের চাহিদাও এখানে রয়েছে। তাঁদের এই দীর্ঘদিনের চাহিদাকে স্বীকৃতি দিলে দেশের উন্নয়নের গতি সুস্থায়ী হবে।

  • Link to this news (এই সময়)