পর পর তিন বার পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) শালবনি আসন থেকে জিতেছেন। এখন তিনি রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। সেই শ্রীকান্ত মাহাতোকে আবার শালবনি কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও। এর মধ্যে আছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও। নিজের হলফনামাতেই এ কথা উল্লেখ করেছেন শ্রীকান্ত মাহাতো।
২০১১-র নির্বাচনে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন শ্রীকান্ত। তার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু হয়েছিল। ২০০৯-এ দু'টি এবং ২০১০-এ একটি মামলা রুজু হয় শ্রীকান্তের বিরুদ্ধে। এই মামলা দায়ের হয় শালবনি থানাতেই। ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore) জেলায় ছিল মাওবাদীদের কার্যকলাপ। যে সমস্ত এলাকায় মাওবাদীদের (Maoist) কার্যকলাপ ছিল তার মধ্যে ছিল শালবনির ভীমপুরের কয়মা এলাকাও। এই অঞ্চলেই বাড়ি শ্রীকান্ত মাহাতোর। সেই সময় অবৈধ বেশ কিছু কাজকর্মে অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
শ্রীকান্ত মাহাতো হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ৩৪ (বি) ধারায় মামলা আছে। সেই সঙ্গে মামলা আছে অস্ত্র আইনের ১২০ (বি), ১২১, ১২১(এ), ১২৩ ছাড়াও অন্য ধারাতেও। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলারই চার্জ ফ্রেম করা হয়নি।
এরই সঙ্গে নিজের আয় এবং সম্পত্তির হিসাবও দিয়েছেন শালবনি (Salboni)-র তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৬ লক্ষ ১১ হাজার ২২০ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে এই আয় ছিল ১ লক্ষ ৩১ হাজার ২১০। ওই সময়ে তাঁর স্ত্রী অঞ্জনা মাহাতোর আয় ছিল যথাক্রমে ১০ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৬০ টাকা এবং ৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৭০ টাকা।
হলফনামায় শ্রীকান্ত (Srikanta Mahata) জানিয়েছেন, তাঁর নিজের এবং স্ত্রীর দু'জনেরই হাতে নগদ আছে ১ লক্ষ টাকা করে। তাঁর এবং স্ত্রীর কোনও গাড়ি নেই। তাঁর নিজের নামে কোনও সোনা না থাকলেও স্ত্রীর নামে আছে ১৫ গ্রাম সোনা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩০৪ টাকা বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৩ লক্ষ ৯০ হাজার ১৩ টাকা।
উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর .১২ একর জমি আছে বলে জানিয়েছেন শ্রীকান্ত। এখন ওই জমির বাজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। আর, স্ত্রীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁদের নামে কোনও বসতবাড়ি নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, স্ত্রীর নামে ২৩ লক্ষ ৩২ হাজার ২০৭ টাকার গৃহঋণ আছে।
১৯৯৭ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidysagar University) স্নাতক শ্রীকান্ত নিজেকে প্রান্তিক চাষি বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্ত্রী চাকরি করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।