• ৬ সেকেন্ডে একটি ভোট, মাঝরাতের পরে ১৭ লক্ষ! অর্থমন্ত্রীর স্বামীর বিস্ফোরক অভিযোগ, বাংলায় কী হবে ?
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটকেন্দ্রে ঢুকে নিজের পরিচয় যাচাই করানো, সই করা, আঙুলে সহজে ওঠে না এমন কালির দাগ, তারপর EVM-এ পছন্দের প্রার্থীর পাশের বোতামটা টিপে দেওয়া— ভোটগ্রহণের বিষয়টা কি এতটাই স্বচ্ছ? নাকি পর্দার আড়ালে ঘটে যায় এমন কিছু যা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত?

    ২০২৪ সালে লোকসভার সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ। তার প্রায় দু’বছর পরে উঠল এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যা শুনলে সত্যি সত্যি গায়ে কাঁটা দিতে পারে। স্রেফ ৬ সেকেন্ডে পড়েছে এক-একটি ভোট! তা-ও আবার ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত ছুঁইছুঁই। মাঝরাতে কারা দেয় ভোট?

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল), থেকে শুরু হচ্ছে ৫ রাজ্যের ভোটগ্রহণ। আর তার ঠিক আগেই এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর। তাঁর আর এক পরিচয়, তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী। গত সপ্তাহে দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের নির্বাচনের এমন কিছু ‘অস্বাভাবিক প্যাটার্ন’ তুলে ধরেছেন, যা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে— বাংলার আসন্ন নির্বাচনেও একই ছবি দেখা যাবে না তো?

    পরাকলা প্রভাকরের দাবি নির্বাচন কমনিশনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, অন্ধ্রে গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট যে ভোট পড়েছিল, তার প্রায় ৪.১৬ শতাংশই পড়েছিল নির্বাচনের দিন অর্থাৎ, ১৩ মে রাত ১১:৪৫ থেকে ১৪ মে ভোর ২টোর মধ্যে।

    অর্থাৎ, প্রায় গোটা দেশ যখন ঘুমিয়ে, তখন অন্ধ্রপ্রদেশের বুথগুলিতে ঝড়ের গতিতে ভোট পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, রাত ৮টা থেকে রাত ২টোর মধ্যে প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ লক্ষেরও বেশি ভোট পড়েছে মধ্যরাতের পরে!

    পরাকলা প্রভাকর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তুলেছেন ‘ভোটিং স্পিড’ অর্থাৎ, ভোটদানের গতি নিয়ে। প্রভাকরের দাবি, মধ্যরাতের পরে অন্ধ্রের অনেক জায়গায় গড়ে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ৬ সেকেন্ডে এক-একটি ভোট পড়েছে, এমন তথ্যও আছে!

    অথচ, একটি ভোট দেওয়ার পর EVM-এর ‘রিসেট’ হতে অর্থাৎ, পরবর্তী ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে অন্তত ১৪ সেকেন্ড সময় লাগে। তা হলে একজন ভোটার বুথে ঢুকে, সই করে, আঙুলে কালি লাগিয়ে, ভোট দিয়ে মাত্র ৬ সেকেন্ডে কী করে বেরিয়ে এসেছেন? অলৌকিক?

    ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঠিক পরে অর্থাৎ, ২০২৪-এর ১৩ মে বিকেল ৫টার পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ভোট পড়েছে ৬৮.০৪%। রাত ১১:৪৫-এ সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৭৬.৫০%। আর চূড়ান্ত তথ্যে দেখা যায় ভোট পড়েছে ৮১.৭৯%! অর্থাৎ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট বেড়ে গিয়েছিল ১৮ শতাংশ? এই হাইজাম্প কি স্বাভাবিক, প্রশ্ন তুলেছেন পরাকলা প্রভাকর?

    ওই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি-ও ছিলেন। পরাকলা প্রভাকরের অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা দু’জনেই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ‘ফর্ম ১৭সি’ অর্থাৎ, বুথ স্তরের তথ্য কেন জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না? ভোটার লিস্টের ডিজিটাল কপি কেন যাচাই করতে দেওয়া হচ্ছে না? প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। এর আগে একই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

    ৯ এপ্রিল অসম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে ভোট। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনও, বাকি মাত্র দুই সপ্তাহ (২৩ ও ২৯ এপ্রিল)। অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলায় দেখা যাবে না তো? সাধারণ মানুষের এটাই প্রশ্ন। মধ্যরাতের পরে হঠাৎ ভোটের হার বেড়ে যাওয়া কিংবা, চোখের নিমেষে EVM-এ ভোট পড়ে যাওয়ার ঘটনা কি এ রাজ্যেও ঘটবে?

    রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, যদি ফর্ম ১৭ সি-র তথ্য জনসমক্ষে না আনে ECI এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপের ১০০ শতাংশ গণনা না করা হয়, তবে গণতন্ত্রের এই উৎসব বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। SIR-এর পরে ভোটার তালিকায় নাম যদিও বা থাকে, লাইনে দাঁড়িয়ে দেওয়া মহামূল্যবান ভোটটির মর্যাদা আদৌ থাকবে তো? নাকি মধ্যরাতের অন্ধকারে আড়ালেই বদলে যাবে রায়?

  • Link to this news (এই সময়)