• অনেক প্রশ্ন, সঙ্গে হাতির ভয় নিয়েই সোনামুখীতে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, বাঁকুড়া: সোনামুখী কার? এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু অনায়াসেই ছুড়ে দেওয়া যায়।

    কেন? ২০১১-তে রাজ্যে পালাবদলের রেশ ধরে বাঁকুড়া জেলার এই বিধানসভা কেন্দ্র বাম শিবিরের হাত থেকে চলে গিয়েছিল তৃণমূলের ঘরে। ২০১৬-তে সেই হারানো আসন ফেরায় বামেরা। ২০২১-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ফোটে পদ্ম। এ বার সোনামুখী কার?

    এই কেন্দ্রে পদ্ম-শিবিরের ভরসা সেই দিবাকর ঘরামি। তৃণমূলের প্রার্থী কল্লোল সাহা, সিপিএমের প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক অজিত রায় এবং কংগ্রেসের প্রতীকে লড়বেন রাহুল বাউড়ি। বিদায়ী বিধায়ক দিবাকরের দাবি, তাঁর এলাকা উন্নয়নের টাকা পুরোটাই খরচ হয়েছে। বিদায়ী পদ্ম বিধায়ক দিবাকর ঘরামি জানাচ্ছেন, তাঁর এলাকা উন্নয়নের পুরো টাকা খরচ হয়েছে। কমিউনিটি হল, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, হাসপাতালের পাঁচিল, স্কুলের শেড, শ্মশানের শেড, ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন, সোলার লাইট, হাইমাস্ট লাইট হয়েছে এলাকায়। আত্মবিশ্বাসী দিবাকরের কথায়, 'এখানে লড়াই নেই। আমার জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। শেষ বার জিতেছিলাম দশ হাজারেরও বেশি ভোটে, এ বার ব্যবধান দ্বিগুণ করাই লক্ষ্য।'

    যা শুনে কল্লোলের প্রতিক্রিয়া, 'দিবাস্বপ্ন দেখছেন দিবাকর। শেষ পাঁচ বছরে দু'চারটি লাইট লাগানো ছাড়া এলাকার তেমন উন্নয়ন হয়নি। এ বার বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের নিরিখে মানুষ তৃণমূলকে আশীর্বাদ করবেন।' অজিতের মন্তব্য, 'তৃণমূল এবং বিজেপি, দু'টি দলকেই মানুষ চাইছেনা। তাঁরা অনেক ভেবেচিন্তে তাই আমি মনে করি, মানুষ এ বার ভেবেচিন্তে ভোট দেবেন। আমাদের ফল ভালো হবে।'

    এলাকাবাসী কী বলছেন? সোনামুখীর মানুষের জ্বলন্ত সমস্যা বাইপাস ও বাসস্ট্যান্ড। দীর্ঘদিনের দু'টি দাবি এখনও পুরণ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সেবাব্রত চট্টোপাধ্যায় বলছেন, 'এখানে বাইপাস ও বাসস্ট্যান্ড অবিলম্বে তৈরি করা দরকার। রামপুরে শালি নদীর উপরে থাকা সেতুর হাল খুব খারাপ। তারও দ্রুত মেরামত দরকার। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ। সোনামুখী পুরসভা বহু প্রাচীন, অথচ আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করতে হবে।'

    সোনামুখীর আর একটি বড় সমস্যা হাতি। বহুদিন ধরে এই অঞ্চলের জঙ্গলে রয়েছে দলমার হাতির দলের আনাগোনা। বাড়ি থেকে ফসল ক্ষতির সঙ্গে ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। বিশেষ জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে বাস করেন। এলাকার বাসিন্দা ভৈরব কর্মকার বলছেন, 'সরকার ফসলের ক্ষতি থেকে হাতির হানায় আহত ও মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক বাড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থাও করেছে। তবে এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তার জন্য অবিলম্বে ময়ূরঝর্না প্রকল্পের রূপায়ণ দরকার।' যোগ করছেন, 'আলু চাষিদের সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত হিমঘর দরকার।'

    তা হলে কী এ বার বদল? নাকি আগের অবস্থাতেই আস্থা? মুচকি হেসে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ভোটাররা!

  • Link to this news (এই সময়)