এই সময়, রামপুরহাট: ঘর বদল করেছেন বীরভূমের মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল ও কংগ্রেস দুই প্রার্থীই।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জীবুর রহমান দীর্ঘ দিন তৃণমূলের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের টিকিট না-পেয়ে হঠাৎই শিবির বদলে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। আর তার পরেই মুরারই কেন্দ্র থেকে হাত শিবির সঞ্জীবুর ওরফে বাপ্পার নাম ঘোষণা করে। ২০১৬-য় মুরারই থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন আব্দুর রহমান। ২০২১-এর ভোটের কিছুদিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়। ততদিনে কংগ্রেস আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের ছেলে পেশায় চিকিৎসক মোশারফ হোসেনের নাম কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে। তৃণমূলের প্রস্তাব পেয়ে রাতারাতি মত বদলে ফেলেন মোশারফ। সে বার তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে মোশারফ ভোটে জিতে বিধায়ক হন।
এ বারও মুরারই কেন্দ্রে তৃণমূলের একাধিক প্রার্থী দাবিদার ছিলেন। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীবুরের নামও শোনা যাচ্ছিল। বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল সঞ্জীবুরকে প্রার্থী করার পক্ষেই ছিলেন বলে খবর। যদিও অবশেষে তৃণমূল ফের মোশারফের উপরেই আস্থা রেখে তাঁকে মুরারই থেকে প্রার্থী করে। এর পরেই কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন সঞ্জীবুর। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করেছে। যদিও এলাকার মানুষের দাবি, কংগ্রেস প্রার্থী হলেও সঞ্জীবুরের মাথায় অনুব্রতর 'হাত' রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহমানের ছেলে হওয়ায় সঞ্জীবুরের রাজনৈতিক জমি পাকাপোক্ত ছিল। এখন তিনি কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে সরাসরি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধাক্কা দিতে পারেন কি না, সেটাই দেখার। যদিও সঞ্জীবুরের দাবি, 'তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে দলের থেকেই অপমানিত হয়েছি। এর পরেই কংগ্রেসের থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব আসে। আমি মানুষের পাশে থাকার জন্যই রাজনীতিতে এসেছি। তাঁদের দাবি মেনেই আমার ভোটে দাঁড়ানো।'
তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ পাল্টা বলেন, 'আজও আমার বাবার নাম মানুষের একটা আবেগ। প্রচারে বেরিয়ে বার বার সেটা অনুভব করি। ফের প্রার্থী হওয়ার একটাই কারণ তৃণমূলের হয়ে কাজ করলে মানুষের উপকারে থাকা যায়।' আর সঞ্জীবুরের অপমানের অভিযোগ প্রসঙ্গে মোশারফ হোসেন বলেন, 'দল সবাইকেই সমান গুরুত্ব দেয়। কিন্তু সবাই তা বোঝে না।'
সব মিলিয়ে, মুরারই এখন শুধু একটি কেন্দ্র নয়, এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরীক্ষাগার। 'খেলা হবে' স্লোগান এ বার কার পক্ষে যায়, তা ঠিক করবে হাই ভোল্টেজ মুরারই কেন্দ্র।