• ‘বন্যার সময় কেউ আসে না, আমিই থাকি’, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার ও প্রদীপ চক্রবর্তী

    ‘বন্যার সময়ে কেউ আসে না। বিপদের সময় কেউ তো আসে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তোমার দেখা নেই রে, তোমার দেখা নেই। যখন তোমরা কেউ থাকো না, আমিই থাকি।’ বুূধবার আরামবাগে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভায় এ ভাবেই বিরোধীদের বিঁধলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এ দিন বেলা ১২টা ১৯ মিনিটে আরামবাগের কালিপুর মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান সভামঞ্চে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরামবাগ মহকুমা এলাকায় রাজ্য সরকার যে সব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা সবিস্তারে তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্প, ফুরফুরা উন্নয়ন পর্ষদ, তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ, জয়রামবাটি–কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, আরামবাগে প্রফুল্লচন্দ্র সেনের নামে মেডিক্যাল কলেজ, আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে এইচডিইউ পরিষেবা চালু করা, ন্যাহ্যমূল্যের ওষুধ দোকান চালু, মহিলা থানা, কিষান মান্ডি, পলিটেকনিক কলেজ, বাস টার্মিনাস এবং নতুন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন।

    পরিসংখ্যান দিয়ে মমতা জানান, আরামবাগ ও গোঘাটে বড় ও মাঝারি পানীয় জলের প্রকল্পে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। লোয়ার দামোদর বেসিন প্রোজেক্টে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। এর ফলে বাঁকুড়া, হুগলি, বর্ধমান, বীরভূম ও হাওড়া জেলায় সেচের কাজে সুবিধা হবে এবং বন্যা প্রতিরোধ হবে। ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মেদিনীপুরের দাসপুর থেকে আরামবাগ, বর্ধমানের নতুনগ্রাম, বোলপুর হয়ে মোড়গ্রাম পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। সব বাড়িতে পানীয় জল, দুয়ারে স্বাস্থ্য প্রকল্প এবং আলু চাষিদের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরামবাগে নতুন হিমঘর করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলু রপ্তানিতে এখন আর কোনও বাধা নেই। ফলে চাইলেই চাষিরা আলু বাইরে পাঠাতে পারেন।’

    আরামবাগের পাশাপাশি এ দিন শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম মাঠে শ্রীরামপুর ও চাঁপদানির তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ ও অরিন্দম গুঁইয়ের সমর্থনে জনসভা করেন মমতা। সেখানে তিনি জানান, হুগলিতে ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করে প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষের ঘরে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে ডানকুনি, উত্তরপাড়া, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি পুরসভার পাশাপাশি শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া ব্লকের ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন। শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া ব্লকে ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে আরও দুটো পানীয় জল প্রকল্প করা হয়েছে। মাহেশের রথ, জগন্নাথ মন্দির ও রাধাবল্লভ মন্দিরকে ইতিমধ্যেই পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনা হয়েছে। জগন্নাথ ঘাট ও রাধাবল্লভ ঘাটে ভাসমান জেটি তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘ও অনেক সাহায্য করেছে।’ তিনি জানান, শ্রীরামপুরে সিল্ক হাবের কাজ শুরু হয়েছে। মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর শপিং মল তৈরি করা হবে, যেখানে মহিলাদের তৈরি জিনিস বিক্রি হবে।

    বন্ধ ডানলপ কারখানা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একহাত নিয়ে মমতা বলেন, ‘২০১৬ সালে আমরা বিধানসভায় বিল পাশ করে ডানলপকে অধিগ্রহণ করার জন্য আবেদন করেছিলাম কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। ১০ বছর হয়ে গেল, সেটা অনুমোদন করেনি।’ তাঁর অভিযোগ, ‘ডানলপের মালিক বিজেপি ঘনিষ্ঠ এবং বিজেপির নেতারা দিল্লিতে গেলে ওই মালিকের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু রাজ্য সরকার ডানলপের শ্রমিকদের ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা ও চিকিৎসা বাবাদ ৪৭৫ টাকা করে দিয়ে আসছে। তৃণমূল নেত্রী জানান, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখেই কলকাতা ও অন্যান্য জেলায় দুর্গাপুজোর কার্নিভালের ভাবনা মাথায় এসেছিল তাঁর।

    বলাগড়ের একতারপুর স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া, অসীমা পাত্র, দেবাংশু ভট্টাচার্য, সমীর চক্রবর্তী ও বিদেশ বসুর সমর্থনে আরও একটি সভা করেন মমতা। তাঁর ভাষণে মমতা বলেন, ‘অসীম মাজি, শ্যামা, নবীন এঁরা ভালো ছেলে। এঁদের সঙ্গে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। বিদেশ বসু দারুণ খেলোয়ার। মোহনবাগ ও ব্রাজিলের মধ্যে সম্প্রীতির ম্যাচে বিদেশ বসু পেলেকে গোল দিয়েছিল।’

    নির্বাচনী জন সভায় আরামবাগের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে সামনে বসে থাকা তৃণমূল কর্মী ও নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন,সবাই প্রার্থী হতে পারে না। যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের দল ঠিক করেছে। সুতরাং কে প্রার্থী ভুলে যান। আমাকে দেখুন। আমাকে দেখে ভোটটা করান। ওদের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করুন।

  • Link to this news (এই সময়)