বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ক্ষোভে ফুঁসছে মণিপুর। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে রাজ্যবাসীর। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম-এর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সরব মেইতেই জনগোষ্ঠী। বুধবার ইম্ফল পূর্ব জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে হামলার চেষ্টাও চলে। মেইতেই জনগোষ্ঠীর সংগঠন কোকোমির পক্ষ থেকে শান্তা নাহাকপাম জানান, ‘মণিপুরে হিংসা শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। আগের ও বর্তমান—উভয় সরকারের আমলেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
সোমবার রাতে বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে বিজেপি শাসিত মণিপুর। ঘটনায় কুকি জঙ্গিদের দিকেই আঙুল তুলেছে মেইতেইরা। বিক্ষুব্ধ জনতা সিআরপিএফ ক্যাম্পে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পালটা সিআরপিএফের গুলিতে মৃত্যু হয় তিনজনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, থৌবল এবং কাকচিং জেলায় জারি করা হয় কার্ফু। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। এদিন মণিপুরের ওই পাঁচ জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ছিল থমথমে। মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, ‘বুধবার সকালে নতুন করে কোনো হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তবে কার্ফু অব্যাহত রয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ।’
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এদিন সচিবালয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেছেন বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মুখ্যসচিব, ডিজি ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিষ্ণুপুরের রাস্তায় পুড়ে যাওয়া বাস।-পিটিআই