• সবরীমালা মামলা: ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস বিচারের অধিকার আছে, কেন্দ্রকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: সবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্র ও সুপ্রিম কোর্টের তরজা জারি। কেন্দ্রের বক্তব্য, কোনো ধর্মীয় আচার কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস কি না, তার বিচার ধর্মনিরপেক্ষ আদালতে হতে পারে না। কারণ বিচারপতিরা আইনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। তাঁদের ধর্মীয় জ্ঞান নেই। বুধবার তার পালটা জবাব দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, ধর্মে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার যাচাই করা ও সেই সংক্রান্ত বিচারের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে আদালতের। এনিয়ে নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ারও রয়েছে শীর্ষ আদালতের।

    এদিন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘যদি ধরে নেওয়া হয় মন্দিরে কোনো ধর্মীয় কুসংস্কার রয়েছে, তাহলেও তা নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সংবিধানের ২৫ (২) (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনসভার সদস্য এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজনে সংশোধনী আইন আনবেন।’

    এর বিরোধিতা করে বিচারপতি আমানুল্লা জানান, কোনও ধর্মীয় আচারকে কুসংস্কার বলা যায় কি না, অবশ্যই সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত। পরে আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা নেবে আইনসভা। কিন্তু আদালতে দাঁড়িয়ে এভাবে বলা যায় না যে, আইনসভার সদস্যের সিদ্ধান্তই  চূড়ান্ত। পরের দিকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় আচারের নামে যদি ডাইনিপ্রথা চালিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে কি কুসংস্কার বলবেন না? নৈতিকতা ও জনগণের স্বার্থে ডাইনিপ্রথার মতো কোনো বিষয় বন্ধ করার ক্ষেত্রে কি আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না? প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে না? এনিয়েই দিনভর কেন্দ্র ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে বাদানুবাদ জারি রয়েছে। 

    ইতিমধ্যেই মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সওয়াল করে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছে কেন্দ্র। আর তার শুনানিতে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছেন বেঞ্চের মহিলা সদস্য তথা বিচারপতি নাগরত্না। তিনি বলেন, ‘কোনো নারী  মাসে তিন দিন অস্পৃশ্য থাকবে, আবার চতুর্থ দিনে তা থাকবে না, এমন হতে পারে না।’ কেরল বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিচারপতির এহেন মন্তব্য নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)