• ভোটের আগে ‘গোমাংস ভক্ষণ’ নিয়ে ভোলবদল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের, বিজেপিকে আক্রমণ অখিলেশ, আপের
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • গুয়াহাটি: ভোটের ঠিক একদিন আগে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গোমাংস নিয়ে বিতর্কে ইতি টানলেন অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সম্প্রতি জোরহাটে প্রচারে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘গবাদি পশুকে রক্ষার জন্য রাজ্যে একটি আইন রয়েছে। প্রকাশ্যে গোমাংস খেলে ৩ বছর পর্যন্ত হাজতবাসের সংস্থান রয়েছে তাতে। যাঁরা গোমাংস খাবেন, তাঁদের আমি রেয়াত করব না। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় আমি এফআইআর করব।’ সেই মন্তব্যের পরই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। মানুষের খাদ্যাভাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বুধবার এই ইস্যুতে ভোলবদল করে হিমন্তের সাফাই, গোমাংস খাওয়ায় সমস্যা কিছু নেই। তবে এই নিয়ে তিনি কিছু বিধিনিষেধের পক্ষপাতী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মুসলিমরা গোমাংস খান। এতে সমস্যার কিছু নেই। অসমের বিরাট অংশে মুসলিমরা বসবাস করেন। আমরা তাঁদের গোমাংস খেতে নিষেধ করতে পারি না। আমরা কেবল তাঁদের বলতে পারি, ঘরের মধ্যেই তা খান। প্রকাশ্য স্থানে গোমাংস খাবেন না।’ পাশাপাশি মন্দির বা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানের ৫ কিলোমিটারের মধ্যেও গোমাংস খাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।

    ভোটের ঠিক একদিন আগে গোমাংস নিয়ে তাঁর ভোলবদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। এই ইস্যুতে বিজেপির দিকে আক্রমণ শানিয়েছে আম আদমি পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বিজেপি হঠান গোরু বাঁচান।’ আম আদমি পার্টির পক্ষে বলা হয়েছে, ‘গোমাতা এখন রাজনৈতিক চমক, দাঙ্গা এবং অশান্তির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। উত্তর ভারতে গোরক্ষার নামে বিজেপি সমর্থকরা মানুষ খুন করে। এখন তাদের নেতারাই গোরু খেতে বলছেন।’

    অনেকেই বলছেন, ধর্মীয় মেরুকরণের উদ্দেশ্যে অসমে গোমাংস ভক্ষণ সংক্রান্ত বিতর্ক আমদানি করেছেন হিমন্তই। কয়েকদিন আগে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী অসম জাতীয় পরিষদের (এজেপি) প্রার্থী কুংকি চৌধুরীর মা সুজাতা গুরুং চৌধুরীকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে ‘গোমাংস ভক্ষক, দেশবিরোধী এবং সনাতন সংস্কৃতি বিরোধী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন।
  • Link to this news (বর্তমান)